skip to content
Sunday, July 21, 2024

skip to content
Homeচতুর্থ স্তম্ভFourth Pillar | সংবিধান, সহমত এবং আমাদের পরধান সেভক, চওকিদার 
Fourth Pillar

Fourth Pillar | সংবিধান, সহমত এবং আমাদের পরধান সেভক, চওকিদার 

যদি একবারও মনে করেন মোদিজি, আরএসএস–বিজেপির হুঁশ ফিরেছে, তাহলে ভুল করবেন

Follow Us :

গরু হারালে যা হয় মোদিজির অবস্থা তারচেয়েও খারাপ। উনি হঠাৎ হঠাৎ এতদিন অনুচ্চারিত শব্দগুলো উচ্চারণ করছেন, যেসব শব্দ মুখেও আনতেন না এখন সেই সব শব্দগুলো বলছেন, এবং বলছেন এগুলো নাকি দেশের জন্য জরুরি। প্রথমটা হল সংবিধান। উনি সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে ঢুকলেন, এনডিএর বৈঠক, না বিজেপির নয়, বিজেপি সাংসদদের নয়, অপনা দল থেকে জিতেছেন কেবল ওই অনুপ্রিয়া প্যাটেল, তিনিও মঞ্চে হাজির। কী ছবি, দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল, উনি সংবিধানটিকে নিয়ে মাথায় ঠেকালেন, অতি ভক্তি যেন কিসের লক্ষণ? ভাষণ দিলেন, রেকর্ড কম সময়ে, আগে রেকর্ড বেশি সময়ে হত, সেদিন খুব ছোট্ট ভাষণ। প্রথা আর কেতামাফিক মোদিজি ঢুকলেই সব্বাই উঠে দাঁড়ান, গতকাল নীতিন গড়করি বসেই থাকলেন তাঁর আসনে। কোথায় গেল মোদি কি গ্যারান্টি? একবারও বলেননি। বিজেপি? সেও এক আধবার, রাম নাম, চারিদিকে জয় শ্রীরাম ইত্যাদি? নেই। তিনি কোয়ালিশন ধর্মের কথা বলছেন, সব মিলকর একসাথ আগে বড়েঙ্গে, কোই নহি হারা, কোই নহি জিতা ইত্যাদি, উনি যে ভগবানের পাঠানো অবতার সেসব নিয়ে একটা কথাও নেই। এর আগে তিনি বিজেপি কার্যালয়ে গেছেন, সেখানেও ছোট্ট ভাষণ, মুখ চোখের অভিব্যক্তিতে নার্ভাসনেস, টোকা দিলে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলবেন এমন এক মুখ। শোনা গেল মাই খ্রিস্টিয়ান ব্রাদার্স, উরিব্বাস, সামনে বসে ওড়িশার এমপি প্রতাপ সারঙ্গি, গ্রাহাম স্টেইন আর তাঁর দুই সন্তানকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্রে এনার নাম ছিল। জিতেছেন তো সাক্ষী মহারাজ, ছিলেন তো যোগী আদিত্যনাথ, সেখানেও উঠল না জয় শ্রীরাম ধ্বনি। বললেন একবারও রামমন্দির বানানোর সেই সাফল্যের কথা? বলবেন কী? রামলালার মাথায় বৃষ্টির জল চুঁইয়ে পড়ছে, জল জমছে মন্দির চত্বরে। বললেন ট্রিপল তালাক তুলে দেওয়ার সেই সাফল্যের কথা? বললেন ডিলিমিটেশন, ওয়ান কান্ট্রি ওয়ান ভোটের কথা? না, বলেননি। পিছনে দেশের বিভিন্ন ভাষার হরফে লেখা আমাদের ভারত, মোদিজির ঠিক পেছনেই ছিল উর্দু হরফ। এসব আগে ছিল নাকি?

এই যে সংবিধান মাথায় নিয়ে প্রণাম করা, এটা দেখে যদি একবারও মনে করেন মোদিজি, আরএসএস–বিজেপির হুঁশ ফিরেছে, তাহলে ভুল করবেন। ওনারা এই সংবিধানকে ফেলে দিয়েই ওনাদের সংবিধান আনতে চান, এটা গোপন তথ্য নয়। নভেম্বর ২৬, ১৯৪৯ সংবিধান সভা দেশের সংবিধানের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছিল, ৩০ নভেম্বর দ্য অর্গানাইজার, আরএসএস-এর মুখপত্র, যে আরএসএস-এর প্রচারক থেকেই মোদিজি বিজেপির কাজে এসেছেন, সেই অর্গানাইজারে লেখা হল, “The worst about the new Constitution of Bharat is that there is nothing Bharatiya about it. The drafters of the constitution have incorporated in it elements of British, American, Canadian, Swiss and sundry other Constitutions. But there is no trace of ancient Bharatiya constitutional laws, institutions, nomenclature and phraseology in it… in our Constitution, there is no mention of the unique constitutional development in ancient Bharat. Manu’s Laws were written long before Lycurgus of Sparta or Solon of Persia. To this day, his laws as enunciated in the Manusmriti, excite the admiration of the world and elicit spontaneous obedience and conformity. But to our constitutional pundits that means nothing.” হ্যাঁ ওনারা লিখেছিলেন মনুস্মৃতিই হওয়া উচিত দেশের সংবিধানের ভিত্তি।

আরও পড়ুন: মাতৃশক্তি কাকে বলে মোদিজি আজ থেকে টের পাবেন

ওনাদের গুরুদেব মুচলেকা বীর বিনায়ক দামোদর সাভারকর লিখেছিলেন, “Manusmriti is that scripture which is most worshipable after Vedas for our Hindu Nation and which from ancient times has become the basis of our culture-customs, thought and practice. This book for centuries has codified the spiritual and divine march of our nation. Even today the rules which are followed by crores of Hindus in their lives and practice are based on Manusmriti. Today Manusmriti is Hindu Law.” মোদিজির যে বিশ্বগুরুর থিওরি, তা এল কোত্থেকে? ওই মুচলেকা বীর সাভারকরই লিখেছিলেন “our Hindu nation shall prove again as unconquerable and conquering a race as we proved once…” এই হিন্দুরাষ্ট্রের কল্পনা নিয়েই মোদি-শাহ, আরএসএস-বিজেপি এক মেজরেটেরিয়ান ডেমোক্রেসি, সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদকে হাতিয়ার করে এগোচ্ছিলেন, এখন ধাক্কা খেয়েছেন। মানুষ জানিয়ে দিয়েছে এনাফ, দাস ফার অ্যান্ড নো ফার্দার। এবং সেই মোদিজি সংসদে বসার দিনে বললেন সহমতের কথা? ভাবা যায়? এ কী কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে? সহমত? বিরোধীদের সহমত ছেড়েই দিন, মন্ত্রিসভার সহমত ছিল ওই নোটবন্দির মূর্খ সিদ্ধান্তের পিছনে? আলোচনা করেছিলেন বিরোধী নেতাদের সঙ্গে? ১৮-২০ ঘণ্টার নোটিসে লকডাউন জারি করে মানুষের উপর এক অবর্ণনীয় অন্ধকার চাপিয়ে দেওয়ার আগে? করেননি। ওসব ছেড়ে দিন, বাংলার তিস্তা নদী, তার জল বাঁটোয়ারা নিয়ে রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মোদিজি? একমুখে বলবেন সহমতের ভিত্তিতে দেশ চালানোর কথা অন্য দিকে এক ১০০ শতাংশ স্বৈরাচারীর মতো দেশ চালাবেন, দুটো একসঙ্গে হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হল হঠাৎ উনি সহমতের কথা বললেনই বা কেন? উনি সহমতে চলার লোক তো নন?

আসলে উনি ওনার ইমেজ কারেকশনের কাজে হাত দিয়েছেন, ছবি পুনরুদ্ধার। ধরুন ওনার ছবি ছিল না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা, সব্বাই বলত আর যাই হোক দুর্নীতির সঙ্গে তো ওনার যোগাযোগ নেই। সেই ছবিতে বাটার কালো কালি পালিশ করে দিয়েছে ওই নির্বাচনী বন্ড স্ক্যাম আর এই নেট, নিট চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। কাজেই সেই মিঃ ক্লিন ইমেজ শেষ। ওনার এক বিশাল জঙ্গি জাতীয়তাবাদী ইমেজ ছিল, সেখানে এই চীনের ব্যাপার স্যাপারগুলো এসে যাওয়ার পরে ৫৬ ইঞ্চি এখন ১২ ইঞ্চি হয়ে গিয়েছে। চীন জমি দখল করছে, পার্মানেন্ট স্ট্রাকচার তৈরি করছে, সীমান্ত বরাবর রাস্তা তৈরি করছে, এমনকী তাদের সাহায্য নিয়ে নেপালও আমাদের ম্যাপ পাল্টে দিচ্ছে, ঘর মে ঘুসকর মারেঙ্গে বলেছেন মোদিজি? একবারও? বলেননি কারণ জানেন বললেই কেলো। ইমেজ ছিল এক জো জিতা ওহি সিকন্দরের, উনিই ভোট ক্যাচার, উনি গেলেই ১০-১২-১৫ শতাংশ ভোট বেড়ে যায়। এবারে উনি যে আসনে প্রচার করেছেন, সেখানেই ঘটি উল্টেছে, এরপরের বার নাকি বিরোধী সাংসদরাই মোদিজিকে বলবেন তাঁদের আসনে প্রচার করে যেতে, কাজেই উনিই জয় এনে দিতে পারেন সেটা মায়ের ভোগে। উনি একলা জয় এনে দিতে পারেন না, ওনার কেন্দ্রেই ওনার ভোট কমেছে আড়াই লাখের বেশি।

দেশের মাথায় যারা মনুবাদকে চাপাতে চান, তাঁরা, তাঁদের মহান নেতা ক্ষণে ক্ষণে বলেন সবকা সাথ, সবকা বিকাশ! কিসের সবকা সাথ? মনুস্মৃতিতে সাফ বলা আছে, মাথায় থাকবে ব্রাহ্মণ আর রাজপুতেরা, ব্যবসা করবে বৈশ্যরা আর সেবা করবে শূদ্ররা, কীভাবে? তাদের ঘরের মেয়েদের আখের খেতে নিয়ে গিয়ে চিৎ করে পেড়ে ফ্যালা হবে, ধর্ষণ করা হবে, হত্যা করা হবে, তারপর পুলিশ পাহারায় জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। উচ্চবর্ণের সেই জানোয়াররা মিছিল করবে গেরুয়া পতাকা হাতে, এটা দেশ না দেশপ্রেম? এই সরসংঘচালক গোলওয়ালকর তাঁর বাঞ্চ অফ থটস-এ লিখছেন, “জাতিভেদ প্রথা আসলে দেশের দুর্বলতা নয়, দেশের শক্তি, জাতিভেদ প্রথা না থাকলে আমাদের দেশ কবেই বহিরাগত শত্রুর কাছে নতিস্বীকার করত।” মানে এরা কেবল হিন্দুরাষ্ট্রই চায় না, এরা মনুবাদ চায়, চতুর্বণের প্রতিষ্ঠা চায়, এরা আমাদের সংবিধানে যে জাতিভেদ প্রথা তুলে জাতি ভাষা বর্ণ লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষের সমানাধিকার দেওয়া হয়েছে, তার অবসান চায়। হ্যাঁ, সেটাই তাদের ইচ্ছে, তারা চায় এক ব্রাহ্মণ্যবাদী বর্ণাশ্রমে বিভক্ত সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে ব্রাহ্মণরা দিশা দেখাবে, ক্ষত্রিয়রা শাসন করবে, বৈশ্যরা ব্যবসা আর দেশের ৮০ শতাংশ তথাকথিত শূদ্র মানুষ তাদের সেবা করবে। অর্থনীতির দিকে তাকান, বৈষম্যের বাড়তে থাকা হিসেবের দিকে তাকান, এটাই তাদের প্ল্যানিং, মানুষ তা বানচাল করেছে। এখন মোদিজি যাকে বলে বাইং টাইম, সময় কিনছেন, আবার নতুন করে নখদাঁত বের করার জন্য সময় নিচ্ছেন। আর মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য হঠাৎ সংবিধান মাথায় ঠেকাচ্ছেন, সহমতের কথা বলছেন, যা আসলে বিশুদ্ধ নৌটঙ্কি।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Video thumbnail
Bangladesh protests | বাংলাদেশ থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে ভারতে ঢুকল ৩৩ পড়ুয়া, অভিজ্ঞতা শুনলে ভয় পাবেন
02:26:40
Video thumbnail
21st July TMC | ২১শে জুলাইয়ে এলাহি আয়োজন সাজো সাজো রব তিলোত্তমায় বিশেষ কী রয়েছে ? দেখুন লাইভ
45:11
Video thumbnail
Bangladesh protests | শুধুই মৃত্যু বাংলাদেশ কোন পথে? হাসিনা কী করবেন?
03:54:10
Video thumbnail
Bangladesh protests | এই মৃত্যু উপত্যকা বাংলাদেশ না শুধুই মৃত্যু, আগুন, গুলি , এ কোন বাংলাদেশ !
08:54:01
Video thumbnail
Bangladesh protests | লাশ গুনে ক্লান্ত বাংলাদেশ ! মৃত্যু উল্লাসের শেষ কোথায়?
07:21:30
Video thumbnail
Sheikh Hasina | Bangladesh protests | সংরক্ষণ মামলায় বড় সিদ্ধান্ত হাসিনার !বাংলাদেশের বিরাট আপডেট!
06:47:21
Video thumbnail
Yogi Adityanath | NDA | যোগীর ভুলেই কি ভাঙবে NDA? বিরাট খবর
04:26:30
Video thumbnail
TMC 21 July | ২১শে জুলাই সভাস্থলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কী বললেন শুনুন
04:51:21
Video thumbnail
Kolkata Parking | শহরে বেআইনি পার্কিংয়ের রমরমা হাতেনাতে ধরল কলকাতা টিভি
02:35:13
Video thumbnail
আজকে (Aajke) | অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কি না সেটাই দেখতে হবে
03:41:01