skip to content
Monday, July 22, 2024

skip to content
Homeচতুর্থ স্তম্ভFourth Pillar | রামধাক্কা খেয়ে বিজেপিতে শোরগোল
Fourth Pillar

Fourth Pillar | রামধাক্কা খেয়ে বিজেপিতে শোরগোল

এবারে না শুধরোলে দল উঠে যাবে আর দায়ী থাকবেন এই দুই গুজরাতি

Follow Us :

উত্তরপ্রদেশের ৭৮টা আসনের প্রতি আসন এলাকার ৫০০ জনের মতো কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিজেপি উত্তরপ্রদেশের এই ভয়ঙ্কর হারের তল খোঁজার চেষ্টা করেছিল। দুটো কথা উঠে এসেছে, দলিত, পিছড়ে বর্গ যাকে বলে তাদের ভোট চলে গেছে সপা-কংগ্রেস জোটের দিকে, দুই, দলের নিচুতলায় সরকারি দল হিসেবে পাওয়া না পাওয়ার খেয়োখেয়িতে ভোট কমেছে। এবং রিপোর্ট যাঁরা দিয়েছেন তাঁরা জানিয়েছেন, এই ক্ষতি রাজ্যের সরকারে বড় রকমের পরিবর্তন ছাড়া অসম্ভব। সেই রিপোর্ট আসার পরে যোগী শিবিরের লোকজন বলছেন, অমিত শাহ আসলে যোগীকে সরানোর জন্যই এই রিপোর্ট বানিয়েছেন। দো গুজরাটি কাম তমাম কর দিয়া, উত্তরপ্রদেশে এটাই শোনা যাচ্ছে। বেনারসে মোদিজির ভোট কমল কেন? তার অনেক কারণের মধ্যে একটা হল বেনারসের ঘাটে অসংখ্য ছোট ছোট নৌকা ট্যুরিস্টদের নিয়ে ঘুরত, তাদের রোজগার হত, এখন কিছু গুজরাতি লোকজন বড় বড় লঞ্চ কিনে চালাচ্ছেন, মাঝিদের রোজগার গেছে ভোগে, এরকম অভিযোগও আসছে। নির্বাচনের পরে সারাদেশে কতটা কী বদলাল তার হিসেব নিকেশ তো চলছে, চলবে। কিন্তু এক বিরাট পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বিজেপি দল। হয়, এরকম হয়, সাফল্য সমস্ত দাগ ধাব্বাকে পিছনে রেখে দেয়, কথায় আছে যো জিতা ওহি সিকন্দর। ২০১৪ বা ২০১৯-এর জয় ছিল বিরাট, কিন্তু ২৭২ নয়, ২৪০-এ ঠেকেছে বিজেপি, তাই বহু কথা উঠছে, আরোপ প্রত্যারোপ চলছে, খুব স্বাভাবিকভাবেই টার্গেট সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। এই বাংলা বিজেপির কথা ছেড়েই দিন, বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠনে এখন এক ফুরফুরে হাওয়া বইছে। দুজন মানুষ কার্যত দুজন মানুষের ইচ্ছেমতোই চলেছে বিজেপি গত ৮-৯ বছর ধরে। ২০১৪-র জয়ের এক বছরের মধ্যে গোটা দলের সম্পূর্ণ রাশ হাতে নিয়েছিলেন মোদি-শাহ। প্রথমেই এক মার্গদর্শক মণ্ডলী বানিয়ে সাইডলাইনে বসিয়ে দেওয়া হল আদবানি, জোশি, উমা ভারতী ইত্যাদি স্টলওয়ার্টদের।

সেই ১৯৮৪-র পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, এবং তার কৃতিত্বের অধিকারী দুই গুজরাতি ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ মোদি-শাহ নিজেদেরকে সেইভাবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন। বিরোধীরা ছিন্নভিন্ন, মাস্টার কমিউনিকেটর নরেন্দ্র মোদির হাত ধরেই উত্তরপ্রদেশে জয়, ওইরকম নোটবন্দির ডিজাস্টারের পরেও প্রবল জয় ২০১৭তে, তারপর এই দুই জগাই-মাধাইকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। দলের বাকি প্রত্যেক নেতাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে পাওয়ার সেন্টার কোনটা। রাজস্থানের বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, ছত্তিশগড়ের রমণ সিং, কর্নাটকের ইয়েদুরিয়াপ্পা, মধ্যপ্রদেশের মামাজি শিবরাজ সিং চৌহান কাউকে রেয়াত করেননি এঁরা, গুজরাতে তো যাকে ইচ্ছে যেদিন ইচ্ছে পাল্টেছেন, দলের রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা জো হুজুর, এক মাত্রিউস্কা মডেল, সেই রাশিয়ান পুতুল যার পাটে একটা পুতুল, তার পেটে আরও একটা, তারও পেটে আরও একটা, এরকম ৮-৯-১০টার সেট আমি দেখেছি। কিন্তু সবার চেয়ে একটা বড়, তার পরেরগুলো তার থেকে ছোট, মোদি-শাহ সাম্রাজ্যেও মডেল ছিল সেটাই, বাকি সবাই ছোট আরও ছোট। আগে সারা দেশের গুচ্ছ গুচ্ছ বিজেপি নেতাদের নাম এক নিঃশ্বাসে বলাই যেত, এখন গুজরাত বা রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সভাপতিদের নাম কেউ বলতে পারবেন? অসম আর উত্তরপ্রদেশ ছাড়া বাকি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নাম মনে নেই কারও। এই মডেলই হল মোদি-শাহ মডেল।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | সহমতটা মুখোশ, আসলে মোদি সরকারের মুখ এক ইঞ্চিও পাল্টায়নি

২০১৯-এর জয় সেই মডেলের উপর আরও একটা অন্য ডাইমেনশন এনে দিল। ইডি আসবে, সিবিআই আসবে, বিরোধী দলের নেতা, শিল্পপতি বাদ দিন দলের নেতাদের মাথাতেও এই ইডি-সিবিআই ছিল। এক ধাক্কায় সেসব গেছে ভোগে। মোদি-শাহ ভেবেছিলেন নির্বাচনের পরে নিছক এক সাংসদ করে রেখে দেবেন শিবরাজ সিং চৌহানকে, একা হাতে যিনি মধ্যপ্রদেশের ওরকম জয় আনলেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হতে দেওয়া হল না, দিল্লি নিয়ে গিয়ে সাইডলাইনে বসানোর প্ল্যানিং ছিল, বিজেপি ৩০০ পেলে সেটাই হত, কিন্তু বিধি বাম। শিবরাজ সিং চৌহানকে কৃষি দফতরের মতো বড় দায়িত্ব দিতে হয়েছে, তিনি মন্ত্রিসভার দফতর পাওয়ার পরেই ট্রেনে করে ভোপালে গেলেন, স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ, রাজকীয় সম্বর্ধনা, ভোপালের রাস্তায় ৩ ঘণ্টা ধরে রোড শো, দেশ কা নেতা ক্যায়সা হো, মামাজি জ্যায়সা হো। এসব আগে কেউ ভাবতেও পারত? ধরুন নীতিন গড়করি, তিনি যে বাদের খাতায় তা সবাই ধরেই নিয়েছিল, তাঁকেও তাঁর দফতর দিতে হয়েছে। সেই ন্যাশনাল রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়ে এনআরটিএইচ দফতর। কথা সেটা নয়, বিহারে উপমুখ্যমন্ত্রী এখন দুজন, সম্রাট চৌধুরি আর বিজয় কুমার সিনহা, তো এই বিজয় সিনহা সাংবাদিকদের ডেকে জানালেন যে তেজস্বী যাদবের একজন ডানহাত, যিনি নাকি ওই নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের বিক্রি ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত, তিনি ওই এনআরটিএইচ দফতরের পাটনার গেস্ট হাউসে বসেই এইসব কাজকর্ম চালিয়েছেন। অন্য কেউ কিছু বলার আগেই এনআরটিএইচের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল বিহারে তাদের কোনও গেস্ট হাউস নেই। এই বিজয় সিনহা অমিত শাহের খুব ক্লোজ আর এই এনআরটিএইচ-এর বিবৃতি নীতিন গড়করির নির্দেশ ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়।

রাজস্থানে বিজয়রাজে সিন্ধিয়া রাজ্য নেতৃত্বকে জরুরি বৈঠক ডেকে এই বাজে ফলাফলের কারণ খুঁজতে বলেছেন। এবারে হেরেছেন বিজেপির জাঠ নেতা সঞ্জীব বালিয়ান, তিনি অমিত শাহের কাছে আর এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়েছেন, বক্তব্য টাকা খেয়ে আমাকে হারানো হয়েছে। পূর্বাঞ্চলে তো মারামারি শুরু হয়ে গেছে। খেয়াল করুন আদিত্য যোগীর মুখে কথা নেই। তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গো বলছেন চক্রান্ত হয়েছে। অসমে গৌরব গগৈকে হারানোর জন্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে গোটা মন্ত্রিসভা নেমেছিল, কিন্তু গৌরব জিতেছেন। ওখানে হিমন্ত বিরোধীরা প্রকাশ্যেই বলছেন টাকা আর ক্ষমতা দিয়ে সব কিছু করা যায় না, বিধায়কদের অনেকে এমনকী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যের মতো নেতারা গৌরবকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বাংলার দিলীপ অনেক কথাই বলেন, কিন্তু এই ফলাফলের আগে দিল্লির নেতারা ভুল লোকের পাল্লায় পড়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ভুল প্রার্থী বেছেছেন এরকম কথা বলেছেন? বিজেপি ৩০০ পার হলে, এ রাজ্যে ৫টা পেলেও বলতে পারতেন? এখন দলের কিছু নেতা প্রকাশ্যেই বলছেন শুভেন্দু সুকান্ত আর দিলীপকে হারানোর জন্য টাকা খরচ করেছেন। দিলীপ ঘোষ নিজে নিজেই রাজ্য সফরে বেরিয়ে গেছেন, দলের সায় নেওয়ার দরকারও মনে করেননি। মহারাষ্ট্রে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন নেতারা। দেবেন্দ্র ফড়নবিশ পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। তামিলনাড়ুতে দলের এক বড় অংশে বিক্ষোভ আন্নামালাইয়ের বিরুদ্ধে, এআইডিএমকে-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়লে গোটা দুই আসন তো পাওয়া যেত। সব মিলিয়ে আপাতত দুই মোটা ভাই তাকিয়ে দেখছেন, দলের মধ্যে গণতন্ত্রের সুবাতাস বহিতেছে, যে কেউ যে কারও সমালোচনা করছেন, মোদিজিরও।

আগে আরএসএস-এর একটা অংশ মোদি-মুক্ত বিজেপির কথা বলতেন, এখন বিজেপি দলের মধ্যেই সেই দাবি উঠছে। এবং সবাই অপেক্ষা করছেন আগামী তিন রাজ্যের নির্বচনের দিকে তাকিয়ে, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড। তিনটেই হাত থেকে গেলে, যা চলে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, তাহলে দলের মধ্যেই প্রথমে ছোটা মোটাভাই টার্গেট হবেন, এবং এই কোর্স কারেকশনে সেই বিদ্রোহীরা আরএসএস-এর প্রচ্ছন্ন সমর্থন পেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এবং দলের এই দুই নেতা আপাতত নিজেদের ঘেরাটোপে নিজেরাই আটকে পড়েছেন, মনে হচ্ছে মসৃণভাবেই সরকার তৈরি হয়ে গেল, মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন হয়ে গেল, এমনকী স্পিকারও তাঁদের ইচ্ছে মতন হয়ে গেল। কিন্তু এসবের পিছনে বিরাট খেলা চলছে, অনেক হিসেব নিকেশ, ছাড়, বোঝাপড়া। আগামী দিনগুলো সরকার বাঁচানোই প্রথম আর প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়াবে এই দুই গুজরাতির কাছে প্রথম প্রায়োরিটি। ইন্ডিয়া জোট যতই নড়বড়ে হোক, সেখানেও হঠাৎ ক্ষমতার গন্ধ পেয়েছেন অনেকেই, পিছনে শরদ পাওয়ার, মমতা ব্যানার্জি, লালুপ্রসাদের মতো মাথারা আছেন, তাঁরা চুপ করে বসে আছেন ভাবলে তো ভুল ভাবা হবে। সরকার বাঁচানোর এই খেলার চাপই দলে এক অন্য বদল এনে দিয়েছে, দলে বইছে ফুরফুরে বাতাস, যেখানে অনায়াসে ভৈরোঁ সিং শেখাওয়ত আদবানির প্রস্তাব নাকচ করে দিতে পারতেন, যেখানে অটলজির চাহিদা না মেনেই দলের চাপে রেখে দিতে হয়েছিল গুজরাত গণহত্যার নায়ক নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতেই। বিজেপির মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের এক পদ্ধতি ছিল তা কি আবার ফিরবে? দলের যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মেকানিজমগুলো ফিরবে? এক উপরতলার বিজেপি নেতা বললেন, পাবলিক ধাক্কা দিয়েছে, ফেলে দেয়নি, বলেছে শুধার যা, এবারে না শুধরোলে দল উঠে যাবে আর দায়ী থাকবেন এই দুই গুজরাতি। হ্যাঁ, এতটা তিক্ত মনোভাব নিয়েই সর্বোচ্চ স্তরে খানিক আলোচনা শুরু হয়েছে, তা কতদূর গড়ায় তা দেখার।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Video thumbnail
TMC | 21 July | ২১ জুলাই, মঞ্চে এখন কী হচ্ছে? দেখুন Live
57:20
Video thumbnail
TMC | 21 July | প্রথম জয়ের পরেই একুশের মঞ্চে কী বললেন মধুপর্ণা ঠাকুর?
52:11
Video thumbnail
TMC | 21 July | Akhilesh Yadav | ২১ জুলাই মঞ্চ, অখিলেশ যাদব কী বললেন?
30:17
Video thumbnail
TMC | 21 July | বিরাট চমক! একুশের মঞ্চে এরা কারা? দেখুন
03:22:11
Video thumbnail
TMC | 21 July | লোকসভা থেকে উপনির্বাচন, জয়ের স্বাদ নিতে একুশের মঞ্চে উঠবে সবুজ ঝড়!
01:24:10
Video thumbnail
NDA | উত্তরপ্রদেশের পর বিহার, NDA-র ফাটল চওড়া হচ্ছে? কী হবে দিল্লি সরকারের?
01:55:21
Video thumbnail
Good Morning Kolkata | দেখে নিন আজ সকালের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলি
01:27:51
Video thumbnail
Bangladesh Protests Live | সংরক্ষণ রায় খারিজ! বাংলাদেশে বিরাট আপডেট
08:57:31
Video thumbnail
TMC | Mamata Banerjee | ২১শে জুলাই তুরুপের তাস! কী বার্তা দেবেন নেত্রী? আভাস দিলেন এই নেতা
01:12:16
Video thumbnail
Mamata Banerjee | Bangladesh | বাংলার দরজায় বাংলাদেশ, কড়া নাড়লে কী করবেন মমতা?
06:45:46