skip to content
Monday, July 22, 2024

skip to content
Homeচতুর্থ স্তম্ভFourth Pillar | ইডি, আদালত, কৌস্তুভ রায়, কেজরিওয়াল আর হেমন্ত সোরেন, মামলা...
Fourth Pillar

Fourth Pillar | ইডি, আদালত, কৌস্তুভ রায়, কেজরিওয়াল আর হেমন্ত সোরেন, মামলা কিন্তু এক (পর্ব – ২)

আজ এক বছর হয়ে গেল কৌস্তুভ রায় জেলে এবং ইডির তরফে মামলা টেনেই যাওয়া হচ্ছে

Follow Us :

গতকালই বলেছিলাম এক হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রীর রাজত্বে আছি আমরা, বিচার নয় এক প্রহসন সর্বত্র। কোথাও কোথাও সামান্য আলো দেখা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে আছে আছে প্রাণ আছে, আমাদের বিচার ব্যবস্থার উপর ভরসা রাখার কারণ আছে, কিন্তু তারপরেই নানান অছিলায়, নানান প্যাঁচপয়জারে সেই ন্যায়বিচার ভেসে যাচ্ছে বিভিন্ন কলাকৌশলে। আজ বলি আলোর কথা, সেই সব কথা যা দেখলে, শুনলে, পড়লে মনে হয় এখনও সব জলের স্রোতে ভেসে যায়নি। গত ২০ জুন ইডি বনাম কৌস্তুভ রায় মামলায় জামিনের আবেদনের শুনানি ছিল, বিচারপতি জামিন দেননি কিন্তু এক ১০ পাতার লিখিত রায় দিয়েছেন যা পড়ে আশার আলো জাগে বইকী। এই বিচারকের চেয়ারে বসেও একজন তাঁর স্বাধীন মতামত দিচ্ছেন, স্পষ্ট কথা বলছেন, এও কি কম কথা। আসুন সেই কথাগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক যা জামিন নাকচ করার পরে বিচারক জানিয়েছেন। রায়ের শুরুতেই তিনি মণীশ সিসোদিয়া, দিল্লির আপ নেতা মন্ত্রী বনাম ইডি মামলায় রায়ের এক অংশকে কোট করছেন, Detention or jail before being pronounced guilty of an offence should not become punishment without trial. If the trial gets protracted despite assurances of the prosecution, and it is clear that case will not be decided within a foreseeable time, the prayer for bail may be meritorious. দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই অভিযুক্তকে জেলে পুরে রাখাটা যেন বিনা বিচারে শাস্তি না হয়ে যায়। যদি বিচার দীর্ঘ সময় ধরে চলতেই থাকে, তাকে অভিযোগকারীর তরফে টানা হতেই থাকে এবং মনে হয় যে খুব শিগগির এই মামলা শেষ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, তাহলে জামিনের আবেদন সঠিক বলেই মনে হয়। কেন এই কথা বললেন?

আজ এক বছর হয়ে গেল কৌস্তুভ রায় জেলে এবং ইডির তরফে মামলা টেনেই যাওয়া হচ্ছে, তাই কি? এরপরেই তিনি বলছেন যে এই মামলাগুলোকে তো খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ ইত্যাদির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। এরপরে তিনি বলেছেন, অভিযুক্ত মনে করছেন যে কলকাতা টিভির সম্পাদক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার সমালোচনা করার জন্যই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে এবং তিনি জানাচ্ছেন যে প্রাথমিকভাবে ইডির অভিযোগ ছিল, ৪ কোটি ২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৪৪৪ টাকা অভিযুক্তের কোম্পানি পেয়েছে পিনকন কোম্পানিজ-এর কাছ থেকে যা নাকি চিটফান্ডের টাকা, পাবলিক মানি এবং তা এইভাবেই সাইফন করা হয়েছিল। কিন্তু এই টাকা শেষ পর্যন্ত কমে ১ কোটি ৪৪ লক্ষতে এসে দাঁড়িয়েছে এবং সেটাও অভিযুক্তের বয়ান অনুযায়ী বিজ্ঞাপন বাবদ পাওয়া টাকা যার হিসেব উনি ট্যাম এবং বার্কের রিপোর্ট এনে দেখিয়েছেন। এরপরে তিনি ওই পিনকন মামলার ইতিহাস এবং ইডির অভিযোগগুলো জানিয়েছেন, তারপরে ৯ নম্বর প্যারাতে লিখছেন, ১৭ সাল থেকে ২০২৩, ৭ জুলাই পর্যন্ত এই অভিযুক্ত মনোরঞ্জন রায়ের মুখে এই কৌস্তুভ রায়ের সম্পর্কে কোনও কথাই শোনা যায়নি, বা ওনার ওই পনজি স্কিমের সঙ্গে ওনার কোনও যোগাযোগ ছিল বলেও জানা যায়নি। অভিযুক্ত জানিয়েছেন, তাঁকে কোনও সুযোগ না দিয়েই গ্রেফতার করে এবং পিএমএলএ কেসে ফাঁসিয়ে আসলে তাঁকে জেলে পুরে রাখার চক্রান্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারী এটাও বলেছেন যে পিনকনের বিরুদ্ধে ৬৩৮.৫৬ কোটি তাকা তছরুপের অভিযোগ আর তার মাত্র দেড় কোটি নিয়ে তাঁরা এই মামলা সাজিয়েছেন, তাহলে অত টাকা গেল কোথায়? ইডি কি তার খোঁজখবর নিয়েছে?

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | ইডি, আদালত, কৌস্তুভ রায়, কেজরিওয়াল আর হেমন্ত সোরেন, মামলা কিন্তু এক

এরপরে ১২ নম্বর প্যারাগ্রাফে সেই ভয়ঙ্কর জোচ্চুরির কথা উঠে এসেছে যেখানে অভিযুক্ত জানিয়েছেন মনোরঞ্জন রায় যে ব্যাঙ্ক ড্রাফটে তাঁর কোম্পানিকে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন তার ডেট ছিল ১/০৪/২০১৪, অথচ এই দিনটা পয়লা এপ্রিল, কোনও ব্যাঙ্কেই কাজ হয় না, ছুটির দিনে এই ব্যাঙ্ক ড্রাফট হল কীভাবে? এটা বানানো, মিথ্যে প্রমাণ, যার উপর ভিত্তি করে এই মামলা সাজানো হয়েছে এবং তাঁকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। বিচারক বলছেন, অভিযুক্তের তরফে এও জানানো হয়েছে যে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদনের সময়ে ইডির কর্তারা জানিয়েছিলেন ওই মনোরঞ্জন রায়ের ৬০ কোটির মতো সম্পদ ইডির নজরে আছে এবং তার মধ্যে ২৫-৩০ কোটি টাকার সম্পত্তি বারও করা গেছে, মানে সেসবের সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পর্ক থাকতেই পারে, সেই উচ্চ আদালতের আবেদনের পরে ৪ মাসের বেশি সময় কেটে গেছে, ইডি এখনও ওই সম্পত্তির কিছুই বার করতে পারেনি, আসলে জামিন যে কোনওভাবে আটকানোর জন্য আদালতে এই মিথ্যে বলা হয়েছিল। এরপরেই এসেছে অর্নেশ কুমার ভার্সেস বিহার রাজ্যের মামলার রায়ের এক অংশ, যেখানে বলা হয়েছে, “Arrest brings humiliation, curtails freedom and casts scars forever. Lawmakers know it so also the police. There is a battle between the lawmakers and the police and it seems that police has not learnt its lesson: the lesson implicit and embodied in Cr.P.C. It has not come out of it’s colonial image despite six decades of independence, it is largely considered as a tool of harassment, oppression and surely not considered a friend of public. গ্রেফতার এক অপমানজনক ব্যাপার, তা ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নেয়, জীবনে এক স্থায়ী ক্ষত রেখে যায় এটা আইনজ্ঞরা জানেন, পুলিশও জানে। আইনজ্ঞদের বিশ্বাস পুলিশ এই শিক্ষা পায়নি, যা আমাদের আইনে বারবার বলা আছে। ছ’ দশকের স্বাধীনতার পরেও পরাধীন শাসকের ছায়া থেকে আজও পুলিশ বের হতে পারল না, পুলিশি ব্যবস্থা মানুষকে হয়রানিতে ফেলে যা আর যাই হোক নাগরিকের সঙ্গে এক বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলে না।

সঞ্জয় চন্দ্র ভার্সেস সিবিআই মামলারও উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে, The object of bail is neither punitive nor preventive. Deprivation of the liberty must be considered a punishment, unless it can be required to ensure that an accused person will stand his trial when called upon. জামিন দেওয়া কোনও ছাড় নয়, রেয়াতও নয়। পরাধীনতা এক ধরনের শাস্তি যদি না শেষপর্যন্ত অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত হন। এসবের বিপরীতে ইডির তরফে না কোনও নতুন তথ্য আনা হয়েছে না কোনও যুক্তি। কিন্তু তারা জোর দিয়ে এই জামিনের বিরোধিতা করেই গেছে। তো এইভাবে বিচারক দু’ পক্ষের কথা বলে এবারে তাঁর নিজের অবজার্ভেশন দিতে শুরু করেন, এবং তার সবটাই ইডির বিরুদ্ধে, একটা নয় বহু ক্ষেত্রেই তিনি ইডির এই মামলাতে ভুল খুঁজে পেয়েছেন বা ইডির জবাব তাঁর কাছে ঠিকঠাক বলে মনে হয়নি। ওনার অবজার্ভেশনেই উনি বলেছেন যে, ৪০টা ভাউচারের কথার প্রেক্ষিতে ইডি জানিয়েছে তার ১৫টা সঠিক, বাকিগুলো বানানো, আমার পর্যবেক্ষণ বলছে ওগুলোর মধ্যে কোনও তফাতই নেই, হয় ৪০টাই ফেক নাহলে ৪০টাই সঠিক, ওর মধ্যে আলাদা করে ১৫টাকে ঠিক ডকুমেন্ট বলা হলে বাকিগুলোকেও ভ্যালিড ডকুমেন্টই বলা উচিত। আমি কেবল ওনার অবজার্ভেশনের প্রথম প্যারাটার হুবহু বাংলা অনুবাদ করে দিচ্ছি। তিনি বলছেন, আমি যা দেখছি তা হল কৌস্তুভ রায়কে ইডি একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী মনোরঞ্জন রায়ের ৭ জুলাই ২০২৩-এ দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতেই গ্রেফতার করেছে, এবং এটা একেবারেই বোঝা যাচ্ছে না কীভাবে কৌস্তুভ রায়কে এই পনজি স্কিমের ব্যবসার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে গ্রেফতার করা হল। যে অভিযোগে বলা হচ্ছে এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে তার দুঃসময়ে দেড় কোটি টাকা দিয়েছিল এবং সেই টাকা অভিযুক্ত ফেরত দেয়নি, এর থেকে বেশি কিছুই এই অভিযোগে বলা নেই। ওই অভিযোগ এবং প্রমাণ করা যায়নি এমন এক হিসেবের পাতার উপর নির্ভর করে ওনাকে ওই চিটফান্ড পনজি স্কিমের ব্যবসার সঙ্গে জোড়া হয়েছে। মামলা চলাকালীন আমি ইডিকে ওই ৫০ লক্ষ টাকার ডিমান্ড ড্রাফটের প্রমাণ হাজির করার কথা বলার পরে তাঁরা একটি পেন ড্রাইভ আর কিছু ই-মেল আমাকে দিয়েছেন, যা দেখে আমার মনে হয়েছে যে এর সঙ্গে ওই ডিমান্ড ড্রাফট ইত্যাদির কোনও সম্পর্ক নেই। ইডি মাঝেমধ্যেই বলে থাকে অভিযুক্ত জেরার উত্তরে গোলমেলে গুলিয়ে দেওয়ার জন্যই জবাব দিচ্ছে, এখন দেখছি ইডি নিজেও সেটাই প্র্যাকটিস করে। এই পেন ড্রাইভ আর ই-মেল সংরক্ষণ করে রাখা হোক যাতে পরেও এটা বোঝা যায়।

হ্যাঁ, এখানেই আমরা রুপোলি সেই রেখা দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেছেন যে উচ্চ আদালত জামিন নাকচ করেছে, কিন্তু তারপরে তথ্যপ্রমাণ এবং পরিস্থিতির যে পরিবর্তন ঘটেছে তা নিয়ে উচ্চ আদালতেই যাওয়া উচিত, তারাই জামিন দেবে, তিনি জামিন দিতে পারেননি কিন্তু আমাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং বুঝেছেন যে ইডি গোল গোল কথা বলে আসলে যেন তেন প্রকারেণ কৌস্তুভ রায়কে জেলে পুরে রাখতে চায়। তিনি বলেছেন যে ইডি সমানে তার গোলপোস্ট সরাচ্ছে, যেখানেই উত্তর নেই সেখান থেকে সরে এক নতুন বিষয় নিয়ে মাঠে নামছে। আমরা খুশি এই কারণে যে বিচারের একটা দিক প্রমাণ করছে আমরা যা যা বলেছি তা সত্য, আর এই সত্যের জন্য আমরা লড়ে যাব আর বার বার বলব ডরো মৎ, ডরাও মৎ, ভয় পেয়ো না, ভয় দেখিও না। দেশের প্রত্যেক মানুষ এবার এই কথাই বলতে শুরু করবে, আমি ভয় করব না ভয় করব না, দু’ বেলা মরার আগে মরব না ভাই মরব না, আমি ভয় করব না ভয় করব না।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Video thumbnail
Mamata Banerjee | দলের দুর্নীতিবাজদের ঠিক কী কী হুঁশিয়ারি মমতার?
53:56
Video thumbnail
Abhishek Banerjee | 21 July | সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে একুশের মঞ্চে অভিষেক, কী বলছেন শুনুন
02:07:15
Video thumbnail
Mamata Banerjee | ২৬-এর লক্ষ্যে মমতার বার্তা বাছাই করা অংশ
57:41
Video thumbnail
Mamata Banerjee | 21 July | একুশের মঞ্চে ২৬-এর বার্তা জননেত্রীর, দেখুন সরাসরি
01:30:40
Video thumbnail
TMC | 21 July | Akhilesh Yadav | একুশের মঞ্চে ইন্ডিয়ার বার্তা, কী বললেন অখিলেশ?
01:22:16
Video thumbnail
Mamata Banerjee | TMC | মমতার একুশের বার্তা, দেখুন LIVE
03:18:35
Video thumbnail
Mamata Banerjee | 21 July | লোভ করলে কী হবে? দলকে হুঁশিয়ারি মমতার
52:11
Video thumbnail
Mamata Banerjee | North Bengal | 21 July | উত্তরবঙ্গে কী করবে তৃণমূল? মঞ্চেই নির্দেশ মমতার
01:00:41
Video thumbnail
Mamata Banerjee | 21 July | তৃণমূল কর্মীরা কেমন হবেন? সাফ বার্তা মমতার
56:15
Video thumbnail
21st July | Mamata Banerjee | তৃণমূলে কেউ নেতা নয়! হুঁশিয়ারি মমতার
30:16