skip to content
Tuesday, July 16, 2024

skip to content
Homeচতুর্থ স্তম্ভFourth Pillar | ২৪-এর নির্বাচনে বিজেপির লাভ, বিজেপির ক্ষতি
Fourth Pillar

Fourth Pillar | ২৪-এর নির্বাচনে বিজেপির লাভ, বিজেপির ক্ষতি

রাজনীতিতে ক্ষয়রোগ বড় কঠিন ব্যাপার, তা শুরু হলে পতনের শেষ ধাপের আগে থামে না

Follow Us :

আমরা শুরু থেকেই বলে আসছিলাম যে এবারের নির্বাচন এক দেশজোড়া নির্বাচন হচ্ছে বটে কিন্তু একই ইস্যুতে নয়, একইভাবে নয়, একই পথে নয়। প্রতিটা রাজ্যের আলাদা ছবি দেখতে পাচ্ছিলাম আমরা। কেবল রাজ্য নয়, রাজ্যের এক এক অঞ্চলে এক এক রকমের ভোট, ইন ফ্যাক্ট কিছু কিছু জায়গাতে তো প্রতিটা আসনে আলাদা আলাদা ভোট হচ্ছিল যা বোঝা গেল ফলাফল হাতে আসার পরে। ধরুন উত্তরপ্রদেশ, মমতা অখিলেশ বেশ ভালো সম্পর্ক, অখিলেশ তাঁর দলের মাথাদের নিয়ে মিটিং করবেন, ফিনান্স ইত্যাদি জরুরি ব্যাপার নিয়ে কথা বলবেন, উত্তরপ্রদেশে করলে কড়া নজরদারি তো থাকবেই। কাজেই তিনি বাংলাতে এলেন, কলকাতাতে মিটিং করলেন, ব্যবস্থার দিকে নজর রেখেছিলেন মমতা, তাঁর মন্ত্রিসভার দু’জন এবং মেয়র ববি হাকিম। কিন্তু এই সম্পর্ক ভালো বলেই তো কোনও দল তাদের জেতা আসন ছেড়ে দেবে না। বিশেষ করে ২০১৯-এ সমাজবাদী দলের ফলাফলের পরে এবারে লড়াইটা ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর, কাজেই তাঁরা একটা জেতা বা জিততে পারে এমন আসন তাঁদের রাজ্যে নন এগজিসস্ট্যান্ট রাজ্যে যাঁরা কোথাও নেইই তাঁদের হাতে ছেড়ে দেবেন না। তো তৃণমূলকে তাঁরা ছেড়েছিলেন ভদোহি লোকসভা। ২০১৯-এ এই লোকসভাতে সপা প্রার্থীই দেয়নি, কংগ্রেস দিয়েছিল, ২৫ হাজারের মতো ভোট পেয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী, বিএসপি এই আসনে স্ট্রং, দু’ নম্বরে ছিল। সেই আসনটা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলকে, দাঁড়িয়েছিলেন কমলাপতি ত্রিপাঠীর নাতি ললিতেশপতি ত্রিপাঠী। চমকে দেওয়ার মতো রেজাল্ট, মাত্র ৪৪ হাজার ভোটে হেরেছেন, দু’ নম্বরে আছেন তৃণমূল প্রার্থী। একদিন অখিলেশ একটা জনসভা করেছিলেন, মমতা যেতেও পারেননি, গেলে অঘটন ঘটে যেতে পারত। কেন এই গপ্পো বলছি, বলছি এটা বোঝাতে যে এবারের সাধারণ নির্বাচন সব অর্থেই অসাধারণ ছিল। এক এক জায়গাতে এক এক রকমের ছবি। কাজেই ফলাফল বের হওয়ার পরে প্রত্যেকের মুখেই একটা আধটা লাড্ডু আছে।

ধরুন বিজেপি, স্বপ্নেও তাদের মাথাতে ছিল না উত্তরপ্রদেশের এমন হার, মহারাষ্ট্রে ভালো হবে না জানতেন কিন্তু এত খারাপ, গতবারের ২৩ এর জায়গাতে ৯? আর বাংলাতে যে পথ দিয়ে চলেছিলেন মোদিজি সে পথের সব আসন গেছে, টার্গেট ৩৫ ছেড়েই দিলাম, গতবারের ১৮-এর জায়গাতে ১২ তাও দুটো আসন কান ঘেঁষে। আবার ওড়িশাতে? বিধানসভা, লোকসভাতে জয়জয়কার, যাকে বলে ছা গয়া, এতদিনের অপ্রতিরোধ্য নবীনবাবুর বিজেডিকে হারিয়ে কলিঙ্গ জয়। ওদিকে ঠিক সময়ে ঠিক ঘুঁটি বেছে নেওয়ার ফল হাতেনাতে, অন্ধ্রপ্রদেশে নাইডুর হাত ধরে ঢুকে পড়ল বিজেপি, এবং তখন সে হাত না ধরলে নরেন্দ্র মোদিকে আজ বিরোধী আসনে বসতে হত। অন্ধ্রে স্ট্রাটেজি খাপে খাপ পঞ্চুর বাপ। উল্টোটা রাজস্থানে, সেখানে ২৫-এ ২৫ পাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার, ১৪টা আসন পেয়েছে বিজেপি। গুজরাতে একটা আসন খোয়া গেছে কিন্তু মোটের উপরে মুখ পোড়েনি, মধ্যপ্রদেশে দারুণ ফলাফল, কমলনাথের ছিন্দওয়াড়া কেড়ে নিতে পেরেছেন। বিহারে দুটো ইচ্ছে ছিল বিজেপির, নিজেদের আসন ধরে রাখা আর একটু দুর্বল জেডিইউকে দেখা, একটা খুইয়ে ১২টা আসন ধরে রেখেছে বিজেপি কিন্তু পাল্টিকুমারও ১২টা আসন পেয়েছে, এখন কিছুদিন চুপ করেই থাকবেন, ফির একদিন দেখা যায়েগা। এবারে বিজেপির দক্ষিণে এক্সট্রা নজর ছিল, সেখানেও মিক্সড ব্যাগ। ভালো খবর কেরালাতে একটা আসন জিতেছে, এই প্রথম কেরালা থেকে বিজেপির সাংসদ লোকসভাতে এলেন। কেবল তাই নয় অন্তত ৪টে আসনে তাঁরা দারুণ লড়েছেন, ১৬.৬৮ শতাংশ ভোটও পেয়েছেন, কেরালার লোকসভার ভোটের ফলাফল বিধানসভা এলাকার হিসেবে দেখলে প্রায় ১১টা আসন বিজেপির হাতে থাকবে, এটা কম কথা নয়। যে কমরেডরা বাংলাতে বিজেপিকে আনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেন, তাঁদের চিন্তার খোরাকের জন্য এই তথ্য কাজে লাগবে। বিজেপি কেরালাতে আগামী দিনে বড় জায়গা দখল করতেই নামছে, ওই রাজ্যতেও কংগ্রেসের হাত ধরার সময় এল বলে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | ২৫-২৬ জুন ভারতবর্ষ কি আর এক নতুন ইতিহাসের সামনে দাঁড়াবে?

ওদিকে তামিলনাড়ু, বিজেপি একটা আসনও পায়নি, তার প্রধান কারণ এবারে বিজেপি প্রথম ওই রাজ্যের দুটো বড় দলের একজনের সঙ্গেও হাত মেলায়নি, কিন্তু ভোট পেয়েছে ১১.২৪ শতাংশ, এখান থেকে উঠতে কত সময় নেবে? ওদিকে কর্নাটকে বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পরে গতবারের লোকসভার ওই ২৬টা আসন না পেলেও ১৭টা আসন আর ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে, শরিক দল জেডিএস দুটো আসন আর ৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। মানে দুই দলের ভোট যোগ করলে ৫১.৬ শতাংশ ভোট, সেটা কম কথা নয়। তেলঙ্গানাতে ৩৫ শতাংশ ভোট, মানে কংগ্রেসের ৪০ শতাংশের থেকে ৫ শতাংশ ভোট কম পেলেও আসন ৮টা পেয়েছে। সদ্য হারের পর এটাও কম কথা নয়। ওদিকে দিল্লি ধরে রাখল বিজেপি, আবার সাতে সাত। সব মিলিয়ে হাসিকান্নায় ভরা রেজাল্ট বললে সহজে বোঝানো যাবে। কিন্তু বিজেপির ফল নিয়ে আলোচনার সময়ে একটা কথা তো না বললেই নয়, বিজেপি নয় নয় করে জিতেছে মোদিজির এক্সট্রা ভোটে? এখনও হিন্দু ভোটের মেরুকরণের হিসেবে জিতেছে বিজেপি? উন্নয়ন আর বিকাশ বা জঙ্গি জাতীয়তাবাদী ভোটে জিতেছে বিজেপি? এসব তো ছিল আর আছেও কিন্তু এসবের পরেও বিজেপি ২৪০-এর বদলে ২০০তে চলে যেত যদি না তারা এই চারটে কাজ করত। বিজেপির স্ট্রাটেজিস্টরা বুঝেছিল বিহার আর মহারাষ্ট্র তাদের শুইয়ে দেবে, এটা তারা জানত। বছর খানেক, বছর দেড়েক আগে থেকেই জানত। তাই তারা শিবসেনা তো ভেঙেছিল, তারপরে এনসিপিও ভাঙল। কেবল চোখ বুজে অঙ্কটা কষুন, মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাড়ি, মানে সাবেক শিবসেনা, এনসিপি আর কংগ্রেসের জোট যদি এবারের নির্বাচনে নামত, তাহলে বিজেপি একটা আসনও পেত না, মানে? আরও ন’টা আসন গেল। এবার চলুন বিহারে, এখানেও বিজেপি বুঝেছিল নীতীশকে ফেরাতেই হবে, নীতীশ, লালু, কংগ্রেস, বাম একসঙ্গে থাকলে এখানে বিজেপি ৩-৪টে আসনের চেয়ে বেশি কিছু পেত না, এবং জেডিইউ না থাকলে সরকার হত না। আর অনেক তা না না না করার পরে চন্দ্রবাবু নাইডুকে সঙ্গে না নিলে ওখানকার তিনটে আসন বিজেপি পেত না, কেবল তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিটা যেত।

শেষটা হল কর্নাটক, রাজ্যে হারের পরেই তাঁরা মেরামতিতে হাত দেন, ইয়েদুরিয়াপ্পাকে আবার জায়গা দেওয়া হয়, দেবেগৌড়ার সঙ্গে জোট হয়, কেবল জেডিএস আলাদা লড়লেই বিজেপির আরও ৪টে আসন কমে যেত। সবমিলিয়ে বিজেপি ২৪০ পেয়েছে, চন্দ্রবাবু নাইডু বা নীতীশকুমারকে নিয়ে সরকারও তৈরি করেছে, কিন্তু দেশের জনমত ২০২৪-এ আসলে বিজেপির বিরুদ্ধেই ছিল, এ নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই। এটাই এবারের নির্বাচনে বিজেপির সবথেকে বড় ক্ষতি, যে দু’ হাত তুলে মানুষের রায় তারা পেয়েছিল, তা তারা ধরে রাখতে পারেনি, তাদের ক্ষয় শুরু হয়েছে আর রাজনীতিতে ক্ষয়রোগ বড় কঠিন ব্যাপার, তা শুরু হলে পতনের শেষ ধাপের আগে থামে না। তাহলে এবারে ব্যালান্স শিট তা নিয়ে বসা যাক। বিজেপির প্রথম ক্ষতি হল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া, বিজেপির এজেন্ডাতে থাকা অনেক কিছু আপাতত তাকে তোলা থাকবে, একটা মজবুত সরকারের মজবুত নেতা, এরকম এক পুরুষালি স্লোগান তাদের হাতে আর রইল না। দ্বিতীয় ক্ষতি তার উত্তরপ্রদেশে জনভিত্তিতে ধস নামা। ওটাই তো জাতীয় রাজনীতির প্রবেশদ্বার, কাজেই ওই ধস থামাতে না পারলে বিজেপি গোটা দেশেও নিজেদের ক্ষয় রোধ করতে পারবে না। এই রেজাল্টের পরে বিজেপির মধ্যে আদি আর নব্য আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে গেছে, আদি এবং আরএসএস-পন্থীরা এই ফলাফলকে আসলে নীতিহীন আদর্শহীনতার ফল হিসেবেই দেখছেন, তাঁদের অনেকেই আঙুল তুলছেন অজিত পাওয়ারের দিকে, নীতীশ কুমার এমনকী চন্দ্রবাবু নাইডু, এই বাংলাতে শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। অন্যদিকে এখনই দলের মধ্যে এই নব্য আগতদের এই আক্রমণ থেকে না বাঁচাতে পারলে আরও সমস্যা। আর লাভ কী হল? দক্ষিণে তাদের দরজা হাট করে খুলে না গেলেও, খানিকটা তো খুলল, আগল তো খুলে গেছে, এবারে তারা কতটা এগোতে পারে সেটা দেখার, কিন্তু দক্ষিণে যে তাদের হিন্দুত্ব এজেন্ডা খুব কাজে দেবে না সেটা সম্ভবত বুঝেছে বিজেপি। লাভের খাতায় আরেক বড় প্রাপ্তি হল ওড়িশা, দেশের অন্যতম তীর্থক্ষেত্রে তারা ছিল তিন কি চার নম্বরে, তারা উঠে এল একে, এই আসন তাদের হাতে বহুদিন থাকবে। আপাতত ব্যালান্সের খেলা আর সামনের তিন রাজ্যের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকা, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা আর ঝাড়খণ্ড নির্বাচনের পরেই আবার রাজনৈতিক সমীকরণের অদল বদল সম্ভব, তার আগে খুব বড় কিছু হবে না, না, স্পিকার ইত্যাদিও সামলেই নেবে বিজেপি। কিন্তু তিন শূন্য হয়ে গেলে? তিন রাজ্যই হাত থেকে ফসকালে? আবার নতুন সমীকরণ উঠে আসবে। চলবে এই দোদুল্যমানতা, এই দে দোল দে দোল চলবে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Video thumbnail
BJP | যে যার নিজের ছন্দেই কি চলছেন বাংলার বিজেপি নেতারা?
00:00
Video thumbnail
Kultaali | ঘরের খাট সরালেই গোপন দরজা! সুড়ঙ্গ ধরে কোথায় যাওয়া যায় দেখুন!
00:00
Video thumbnail
Sukanta Majumdar | দলের মধ্যেই তৃণমূলের দালালরা? ক্ষোভের মুখে সুকান্ত
00:00
Video thumbnail
BJP | সামনে ফের ৬টি উপনির্বাচন, হাল খারাপ বিজেপির?
00:00
Video thumbnail
SSC | পিছল SSC মামলার শুনানি, ভবিষ্যৎ কী ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর?
00:00
Video thumbnail
West Bengal Madhyamik | মাধ্যমিক পরীক্ষার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে নতুন নিয়ম জানেন?
00:00
Video thumbnail
Sukanta Majumdar | দলের মধ্যেই তৃণমূলের দালালরা? ক্ষোভের মুখে সুকান্ত
02:47
Video thumbnail
Kultaali | ঘরের খাট সরালেই গোপন দরজা! সুড়ঙ্গ ধরে কোথায় যাওয়া যায় দেখুন!
03:46
Video thumbnail
Top News | কাটল না জটিলতা, পিছল সুপ্রিম কোর্টে ৩ সপ্তাহ পিছল SSC মামলার শুনানি
39:18
Video thumbnail
BJP West Bengal | বিরাট ফাটল? শুভেন্দু একা, দিলীপ-সুকান্ত একসঙ্গে!
03:54:19