skip to content
Monday, July 22, 2024

skip to content
Homeচতুর্থ স্তম্ভFourth Pillar | নিট পরীক্ষা বাতিল হবে?
Fourth Pillar

Fourth Pillar | নিট পরীক্ষা বাতিল হবে?

উত্তর ভারত জুড়ে এই কাণ্ড গত সাত বছর আগে সংগঠিতভাবে শুরু হয়েছে

Follow Us :

মামলা শুরু হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্টে দেশের সর্বোচ্চ বিচারপতি সরকারি উকিলকে বলেছেন, আবার বলবেন না যেন যে প্রশ্ন লিক হয়নি। হ্যাঁ, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সাফ জানানো হয়েছে যে পেপার লিক হয়েছিল, প্রায় ৬০টার মতো আবেদন পড়েছে এই নিট পরীক্ষা বাতিলের জন্য, দেশের বিরোধী দলের দাবি পরীক্ষা বাতিল করা হোক। কিন্তু ২৬ লক্ষ ছেলেমেয়ের পরীক্ষা, এক বিশাল খরচ, লজিস্টিক ইত্যাদি মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট গতকাল জানিয়েছে যে কতটা লিক হয়েছে, দ্য এক্সটেন্ট অফ লিকেজ, ২০-৩০ জনের মধ্যে নাকি বহু ছাত্রছাত্রী পেয়েছিলেন ওই লিক করা প্রশ্নপত্র? কত ছেলেমেয়ে সেই লিক করা প্রশ্নপত্র পেয়েছে তার একটা ধারণাও দিতে বলা হয়েছে যার পরেই সুপ্রিম কোর্ট ফাইনাল ডিসিশন জানাবে। এদিকে নিট কর্তৃপক্ষ কিন্তু আপাতত সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই কাউন্সিলিং বন্ধ রেখেছে। সব মিলিয়ে শিক্ষাজগৎ, পরীক্ষা, চাকরি নিয়ে এক নরক গুলজার চলছে। নিট পরীক্ষা এক বিশাল প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিল, পিলপিল করে বেরিয়ে আসছে পোকাগুলো। বহু ঘাপলা, বিরাট স্ক্যাম। সম্ভবত গত দু’ দশকের সবচেয়ে বড় স্ক্যাম এবার আমাদের সামনে আসতে চলেছে। এর আগে জানাছিল না তা নয়, কিন্তু সেগুলো ছিল কিছু বিচ্ছিন্ন তত্ত্ব, কিছু বিচ্ছিন্ন ইনফরমেশন, যা অনেকটাই গেসওয়ার্ক-এর ওপর নির্ভর করত। আপনি গোটা দেশের যে কোনও প্রান্তে, জম্মু-কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত যে কোনও জায়গাতে বাঙালি চিকিৎসক পাবেন, হ্যাঁ তাঁরা এখন বয়স্ক, তাঁরা এই বাংলা থেকেই চলে গেছেন সেই সব কাঁহা কাঁহা মুলুকে। বিহারে তো ডাগদারবাবু মানেই বঙ্গালি। ইউপিতেও তাই ছিল। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য রাজ্যের মানুষজনও ডাক্তারি পাশ করে প্র্যাকটিস করতে শুরু করলেন, বাঙালি ডাক্তারদের মিথ রয়ে গেল, কিন্তু সংখ্যা কমে এল।

এইভাবেই ইঞ্জিনিয়ারসাব থেকে কালেক্টর, ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বাঙালিদের সংখ্যাধিক্যও খুব স্বাভাবিক ছিল, কারণ ইংরিজি শিক্ষার আলো এই বাংলাতে অনেক আগেই পড়েছিল। তারপর অন্যান্য রাজ্যের মানুষজন আসতে থাকেন এই বৃত্তে। স্বাভাবিক। কিন্তু যেটা অস্বাভাবিক সেটা হল গত বেশ কিছু বছর ধরে এই এন্ট্রান্স পরীক্ষায়, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস ইত্যাদির ক্ষেত্রে বাঙালি পিছিয়ে পড়ছে, সংখ্যা কমছে, বদলে কাউ বেল্ট থেকেই অনেক বেশি সংখ্যক ছেলেমেয়েরা অ্যাডমিনিসট্রেটিভ সার্ভিসে আসছেন, মেডিক্যাল এন্ট্রান্সে উপরের তালিকাতে থাকছে। কেন? আবার উল্টোদিকে এখনও গবেষণা, অ্যাকাডেমিক নানান পরীক্ষাতে বাঙালিরা এগিয়ে। আমার এক বন্ধু স্থানীয় দাদা এই তথ্যগুলো নিয়ে নাড়াঘাঁটা করতে গিয়ে বললেন যে ডাক্তারি পরীক্ষায় ২০ শতাংশ কমেছে বাঙালি ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা, তারমধ্যে থেকে যদি প্রবাসী বাঙালিদের বাদ দেওয়া হয় তাহলে তা ২৫ শতাংশের বেশিই কমেছে। মানে ১০০ জনের বদলে এই ডাক্তারি পরীক্ষার এন্ট্রান্সে ৭৫ জন পাশ করছেন, এবং এটা কমছে। তার চেয়েও খারাপ অবস্থা নাকি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পরীক্ষায়, সেখানে ৫০ শতাংশের চেয়েও কমেছে বাঙালি ছাত্রের সংখ্যা। কেন এমনটা হচ্ছে? তার একটা কারণ এখন এই নিট কেলেঙ্কারি সামনে আসার পরে বেরিয়ে আসল। জানা গেল এক সফল নিট পরীক্ষার্থীর কাছ থেকেই, তার নাম আয়ুষ রাজ, সে পাটনাতে থাকে, সে জানাচ্ছে পরীক্ষার তিনদিন আগে তাদের একজায়গাতে রাখা হয়, সেখানে তাদের হাতে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয় এবং সেই প্রশ্নের উত্তর কী হবে তাও বলে দেওয়া হয়, সে জানিয়েছে পরীক্ষা হলে আসার পরে যে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় তা ছিল এক্কেবারে এক। ছেলেটিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারই সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে আরও ৯ জন, ওই পাটনাতেই। উত্তরপ্রদেশ থেকে একইভাবে কিছু লোকজন ধরা পড়েছে যাদের কাছে অবিকল এক প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে, কয়েকজনের কাছ থেকে তার সম্পূর্ণ উত্তর লেখাও পাওয়া গেছে, একই রকম গ্রেফতারি হয়েছে মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা আর মহারাষ্ট্রে,

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | রামধাক্কা খেয়ে বিজেপিতে শোরগোল

এগুলো আলাদা আলাদা ঘটনা কিন্তু দুটো কমন ব্যাপার আছে। প্রথমটা হল এই সবকটা রাজ্য গোবলয়ের, এই সবকটা রাজ্যেই ক্ষমতায় আছে বিজেপি দল। এই সবকটা রাজ্য গত ৭ বছর ধরে নিট থেকে ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফলদের তালিকায় উপরে। কেসটা কী? দেশজুড়ে খেয়াল করুন, দু’ তিনজন স্যারের কথা শোনা যায়, দু’ তিনটে প্রতিষ্ঠানের কথা শোনা যায় যাদের কাছে পড়াশুনো করলেই নাকি পরীক্ষাতে পাশ কেবল নয় টপার হওয়ার সুযোগ থাকছে। আর কোটার কথা তো সব্বাই জানেন, সেখানে লোকে ঘটিবাটি বিক্রি করে ভর্তি হচ্ছে কেবল ইউপিএসসি, নিট ইত্যাদি পরীক্ষাতে পাশ করার জন্য। তো সেই তাদের একজন আকাশ স্যার এক টিভি অনুষ্ঠানে সাফ জানিয়েছেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লিক হয়, ফাঁস হয়, এটা সব পরীক্ষাতেই হয়, এটা নতুন কিছু নয়, আমরা ছাত্রদের বলি তারচেয়েও ভালো করে পরীক্ষা দাও যাতে তোমরা তাদের চেয়েও বেশি নম্বর পেয়ে মেরিট লিস্টের উপরে থাকতে পারো। এটা বোকাবোকা শোনাচ্ছে না? পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, সব পরীক্ষার হয়, সেটা একজন টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে গলা তুলেই বলছেন, তাঁকে গ্রেফতার করে জানার চেষ্টা হবে না যে তিনি কিসের ভিত্তিতে এই কথা বলছেন? তো আমিও আমার বাইরের রাজ্যের বন্ধুদের ফোন করে এ নিয়ে কথাবার্তা বলা শুরু করলাম, তাতে যা বেরিয়ে এল তা মারাত্মক।

গোবলয়ে এই কাজ করার জন্য বেশ কিছু চক্র কাজ করছে, তারা প্রত্যেক চাকরি আর এইরকম ডাক্তারি, চার্টার্ড কস্ট অ্যাকাউন্টট্যান্ট ইত্যাদি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির কাজ করে, এর সঙ্গে বিরাট বিরাট নেতারা জড়িত আছে, এঁদের বেশিরভাগ হয় গোবলয়ের মানে বিহার, ইউপি, এমপি, হরিয়ানা না হলে মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র, তেলঙ্গানা বা কর্নাটকের। এঁদের বিরাট বিরাট কোচিং সেন্টার আছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ কিছু মাফিয়াদের যাঁরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাথাতে বসে থাকা মানুষজনের কাছ থেকে কেবল প্রশ্নপত্রটা বার করে দেন। এরপর তার বিভিন্ন পরিবর্তন করা হয়। ফিফটি ফিফটি মানে হল অর্ধেক আসল প্রশ্ন অর্ধেক অন্য প্রশ্ন, ছোট থেকে মাঝারি কোচিং সেন্টারে এগুলো বিক্রি হয়, পরীক্ষার পরে কোচিং সেন্টারের কর্তারা বলেন আমাদের সাজেশনের ৫০ শতাংশ মিলে গেছে। এরপর ৭০ ফিসদি। মানে ৭০ শতাংশ মিলে যাবে, সেটা হলে টপার হবে না কিন্তু একটা র‍্যাঙ্কে থাকতে পারবে। এরপর হল পুরো প্রশ্নপত্র, এর টেকনেম নাকি পুরা খাজানা। তিন থেকে চার দিন আগে সে রেল হোক, রাজ্য পুলিশ হোক, ইউপিএসসি হোক আপনার হাতে পৌঁছে যাবে, ৩০ লক্ষ টাকা থেকে ৮০ লক্ষ টাকা দাম, এগুলো কোচিং সেন্টারে যাবে না, সরাসরি ছাত্রদের সঙ্গে বা তাদের পেরেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ। আর পরেরটা হল কোচিং সেন্টারের সঙ্গে চুক্তি, ছেলে বা মেয়েটিকে কেবল প্রশ্ন দিয়েই নয়, তার উত্তর দিয়ে বাকায়দা ট্রেনিং দেওয়া হবে। আরও একটা পদ্ধতি আছে, এটা কয়েকজন খুব উপরের লেভেলের লোকজনদের কাজ, এঁরা কিছু আড়কাঠির মাধ্যমে বিরাট বড়লোকদের ঘরের ছেলেমেয়েদের ধরে, এদের বলা হয় যে প্রশ্নের উত্তর ১০০ শতাংশ শিওর জানেন তা দেবেন, বাকিটা ছেড়ে আসবেন, আমরা বুঝে নেব।

উত্তর ভারত জুড়ে এই কাণ্ড গত সাত বছর আগে সংগঠিতভাবে শুরু হয়েছে, মন্ত্রী, সান্ত্রী, পুলিশ, নেতা, কোচিং সেন্টার, মাস্টারমশাইকে নিয়ে এক বিরাট চক্র, সেখানে পরীক্ষার আগে ঠিক হয় প্রশ্নপত্রের দাম, তারপর বোলি লাগাও, সবটা অ্যাডভান্সে কাজ, কাজ হয় দেখেই গার্জিয়ানরা পয়সা দেন। পয়সা ঝেড়ে দিয়ে বখেড়া খাড়া করেন না এরা, কোনও কারণে না হলে পয়সা ফেরত আর পরের বছরে আবার একই পরীক্ষা উতরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। কত দাম? শোনা যাচ্ছে ২০ লক্ষ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা। বাঙালি নেই কেন? বুঝতে কষ্ট হচ্ছে নাকি? কিন্তু এটা শুধু বাঙালি অবাঙালির কথা নয়, প্রশ্ন এইভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পরে আইএএস, আইপিএস-এ কারা থাকবেন? খুব সাধারণভাবে গোবলয়ে এক আইএএস বা আইপিএস-এর দহেজ কোটি দেড়েকের কম নয়, তারপর চাকরির উপরি রোজগারে এনাদের আপত্তি তো থাকার কথা নয়। এনাদের যাঁরা ডাক্তার হচ্ছেন তাঁরা একইভাবে পয়সা খরচ করেই আরও বড় ডিগ্রি এনে নিজেদের নার্সিং হোম চালাচ্ছেন, নিজেদের জানাশুনো কিছু মেধাবী ছাত্রদের জুটিয়ে। আমরা ভাবছি বাঙালি পিছিয়ে পড়ছে, আমরা ভাবছি বাঙালি মেধা তালিকাতে জায়গাই পাচ্ছে না। আসলে ৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে মেডিক্যাল কলেজে আসন কেনার ধক নেই বাঙালির, আর এদিকে প্রচার চলছে বাংলা নিট-এ নেট-এ উচ্চশিক্ষায় ইউপিএসসিতে পিছিয়ে পড়ছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Video thumbnail
TMC | 21 July | ২১ জুলাই, মঞ্চে এখন কী হচ্ছে? দেখুন Live
57:20
Video thumbnail
TMC | 21 July | প্রথম জয়ের পরেই একুশের মঞ্চে কী বললেন মধুপর্ণা ঠাকুর?
52:11
Video thumbnail
TMC | 21 July | Akhilesh Yadav | ২১ জুলাই মঞ্চ, অখিলেশ যাদব কী বললেন?
30:17
Video thumbnail
TMC | 21 July | বিরাট চমক! একুশের মঞ্চে এরা কারা? দেখুন
03:22:11
Video thumbnail
TMC | 21 July | লোকসভা থেকে উপনির্বাচন, জয়ের স্বাদ নিতে একুশের মঞ্চে উঠবে সবুজ ঝড়!
01:24:10
Video thumbnail
NDA | উত্তরপ্রদেশের পর বিহার, NDA-র ফাটল চওড়া হচ্ছে? কী হবে দিল্লি সরকারের?
01:55:21
Video thumbnail
Good Morning Kolkata | দেখে নিন আজ সকালের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলি
01:27:51
Video thumbnail
Bangladesh Protests Live | সংরক্ষণ রায় খারিজ! বাংলাদেশে বিরাট আপডেট
08:57:31
Video thumbnail
TMC | Mamata Banerjee | ২১শে জুলাই তুরুপের তাস! কী বার্তা দেবেন নেত্রী? আভাস দিলেন এই নেতা
01:12:16
Video thumbnail
Mamata Banerjee | Bangladesh | বাংলার দরজায় বাংলাদেশ, কড়া নাড়লে কী করবেন মমতা?
06:45:46