কলকাতা: রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ভাঙন অব্যাহত। সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy) এবং সুস্মিতা দেবের (Sushmita Deb) পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশচিক বরাইক। বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ইস্তফাপত্র রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এর ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১০-এ নেমে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েকজন সাংসদের পদত্যাগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শুধু সাংসদ পদই নয়, তৃণমূল কংগ্রেস থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের আদিবাসী নেতা প্রকাশচিক বরাইক। ইস্তফার পর নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। প্রকাশচিক বলেন, “আগামী দিনে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা নির্দেশ দেবেন, সেইমতো কাজ করব।”
তিনি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে বলেন, “আগামী দিনে কী হবে, সেটা সময়ই বলবে।”
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ ও বিভাজনের জল্পনা ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের একাংশের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ।
সূত্রের দাবি, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাংশ বিধায়ক আলাদা অবস্থান নিয়েছেন। একইভাবে লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল সাংসদ এনডিএ-তে যোগদানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জল্পনা রয়েছে।
রাজ্যসভার ক্ষেত্রে অবশ্য ভাঙনের কৌশল কিছুটা আলাদা। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতেই একযোগে ভাঙনের বদলে একের পর এক সাংসদ পদত্যাগের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
সুখেন্দুশেখর রায় প্রথম ইস্তফা দেন। এরপর সুস্মিতা দেব এবং এবার প্রকাশচিক বরাইকের পদত্যাগে রাজ্যসভার অঙ্ক আরও জটিল হয়েছে তৃণমূলের জন্য। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই আরও একজন এবং আগামী সপ্তাহে আরও কয়েকজন সাংসদের পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।







