২১ মে ২০২২, শনিবার,
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
K T V Clock
বারেন বিপ্লবে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চীনের বিচারের দাবী
কলকাতা টিভি ওয়েব ডেস্ক
কলকাতা টিভি ওয়েব ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২২, ২:৫৬ অপরাহ্ন
বারেন বিপ্লবে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চীনের বিচারের দাবী
মোটরবাইক মিছিল ও পথসভা

বারেন বিপ্লব গণহত্যা দিবস  উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চীনের বিচারের দাবী জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম রাজশাহী জেলা শাখা। মঙ্গলবার  চীনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে বারেন বিপ্লবে যে গণহত্যা হয়েছে আন্তর্জাতিক আদলতে তার বিচারের দাবীতে মোটরবাইক মিছিল ও পথসভা করে তারা।

বিকালে রাজশাহী শহরে সামাজিক সংগঠনটি এই কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূতিতে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। 

মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী বলেন, আমরা বারেন বিপ্লবের শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। আমরা বুঝি স্বাধীনতার বিপ্লব ও সংগ্রাম কাকে বলে। কারণ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের লাল সবুজের বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। বারেন বিপ্লবকে কেউ বিদ্রোহ বা বারেন গণহত্যা নামেও জানে , যা ৫ এপ্রিল ১৯৯০ এ পূর্ব তুর্কিস্তানের আক্তো কাউন্টিতে শুরু হয়েছিল। বারেন টাউনশিপ ১৯৯০ সালের বসন্তে কয়েক সপ্তাহ চীনা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও বর্বরতা দেখেছিল। তাছাড়াও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মারাত্মক এক শিশু নীতির অংশ হিসাবে, চীন সরকার নিয়মিতভাবে অধিকৃত পূর্ব তুর্কিস্তানের লক্ষ লক্ষ নারীকে তাদের সন্তান গর্ভপাত করতে বাধ্য করেছিল।

জেইদিন ইউসুপের নেতৃত্বে বারেন গ্রামবাসীরা চীনের কয়েক দশক ধরে ঔপনিবেশিকতা, গণহত্যা এবং দখলদারিত্বের নিষ্ঠুর অভিযানের প্রতিবাদ করতে স্থানীয় চীনা সরকারের সদর দফতরে গিয়েছিলেন। চীনা কর্মকর্তারা তাদের উদ্বেগের উত্তর দিয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি পাঠানোর মাধ্যমে। তাতে করে কিছুসংখ্যক স্থানীয় ধর্মপ্রাণ, ঈশ্বর-ভয়শীল মানুষ জেইদিন ইউসুফের নেতৃত্বে পূর্ব তুর্কিস্তানের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চীনা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেওয়ার এবং লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

এতে চীন সরকার চরম চড়াও হয়ে বারেন টাউনশিপে আরও বেশি সৈন্য পাঠায়। এবং চীনা সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার মাধ্যমে নির্বিচারে গ্রামবাসীদের উপর গণহত্যা চালায়। এই গণহত্যার শিকার হন হাজার হাজার উইঘুর এবং অন্যান্য তুর্কি জনগণ। বারেন বিদ্রোহের পর চীনা সরকার ৭৬০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তারসহ অনেককে দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে এবং অন্যদের মৃত্যুদণ্ড দেয়। বরেন বিপ্লবের শহীদদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনের দখলদারিত্ব ও ঔপনিবেশিকতার অবসানে জাতির সংকল্পের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। বারেন বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা সংগ্রামকারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করে চলেছে।

পথসভায় বিএসএফের নেতৃবৃন্দ বলেন, বারেন বিপ্লবে চীন সরকার বর্বরোচিত গণহত্যা করে মাবনবাধিকারকে চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছে। যা আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবী রাখে। যেখানে বিশ্ব আজ বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক বিশ্ব গড়ার পথে হাটছে। চীন সেখানে সে পথে না হেটে ধর্ম ও বর্ণবাদী সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিধনে নির্যাতন-নিপীড়ন, নারীদের জোরপূর্বক গর্ভপাতসহ নানাহ মানবতাবিরোধী যজ্ঞ পরিচালিত করেই চলছে। তাই বিশ্ববাসীর উচিৎ হবে চীন সরকারকে মানবিক পথে হাটার সৃষ্টি চাপ সৃষ্টি করা। তাতেও যদি চীন বর্বরতার পথ থেকে সরে না আসে। তাহলে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চীন সরকারের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা।

Tags : misil, rally

শেয়ার করুন


© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.