ওয়েবডেস্ক- এসআইআর (SIR Issue) সংঘাতে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আজ এক অন্য ভূমিকায় দেখা গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (CM Mamata Banerjee) । সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সওয়াল জবাবে আজ এক আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গেল তাঁকে। ইতিহাস রচনা করলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি চলছে। সওয়াল করেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কেউ সর্বোচ্চ আদালতে সওয়াল করলেন। এসআইআর সংঘাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল, গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন।
এদিন ছিল টান টান উত্তেজনা। সেই আবহেই বুধবার সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাংলো থেকে বেরিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুত্বের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলাকে। আর এই কারণে মামলাটি ক্রমতালিকার ওপরের দিকে এগিয়ে এসেছে। এদিন আদালতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনাদের অনুগ্রহেই আমি এখানে। তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সমস্যা হল, সব শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমরা ন্যায় বিচার পাচ্ছি না। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে। মনে হল কোথাও বিচার পাচ্ছি না। আমি কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নই। কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। আমি আমার দলের হয়ে লড়াই করছি না। আমার রাজ্যের হয়ে আমি লড়ছি’।
আরও পড়ুন- ইতিহাস গড়ে সুপ্রিম কোর্টে শুরুতেই কী কী বললেন মমতা?
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে থাকা কিছু অংশ পড়ে শোনান। তিনি জানান, বৈধ ভোটারদের নাম যাতে বাদ না পড়ে, ভাষাগত কারণে যাতে সেটি না করা হয়, AI-এর সাহায্য়ে কাজ করা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা যা সামনে তুলে ধরেছেন সেগুলির সমাধান খুঁজে বের করা হবে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, কোনও ভাবেই বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া যাবে না। তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওরা এই সব কাজ করছে। মেয়েরা বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি গিয়েছে। তাদের নামও মুছে দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র মানুষ, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর হয়েছেন, সেখানে বলা হচ্ছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি।
বাংলার মানুষ খুশি যে আদালত আধারকে নথি হিসেবে গ্রাহ্য করতে বলেছে। অন্য রাজ্যে ডমিসাইল সার্টিফিকেট চলছে, জাতি শংসাপত্র চলছে। শুধুমাত্র বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে। চার রাজ্যে নির্বাচন হবে। ২৪ বছর পর কেন তিন মাসে করতে এত তাড়া। এখন ফসলের মরশুম মানুষ বাইরে রয়েছেন। একশোর উপরে মানুষ মারা গেছেন। হাসপাতালেও ভর্তি অনেকে।
অসমে হচ্ছে না কেন? সওয়াল করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর শুধুমাত্র নাম মুছে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। চার মাস ধরে সেটাই চলছে। অপরিকল্পিতভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে লোক নিয়ে আনা হচ্ছে। ৫৮ লক্ষের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। ওদের আবেদন জানানোর কোনও উপায় নেই। শুধুমাত্র বাংলাকেই নিশানা করা হচ্ছে। বাংলার মানুষের উপর বুলডোজার চালানো হচ্ছে’।
পরের শুনানি হবে সোমবার, এই মর্মে নোটিস জারি করল শীর্ষ আদালত।







