২১ মে ২০২২, শনিবার,
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
K T V Clock
খবরে প্রকাশ, রাজ্যের রাজ্যপাল, শ্রীল শ্রীযুক্ত জগদীপ ধনখড় সাহেবের রাতে ঘুম হচ্ছে না
চতুর্থ স্তম্ভ: ধনখড় সাহেবের রাতে ঘুম হয় না
কলকাতা টিভি ওয়েব ডেস্ক
কলকাতা টিভি ওয়েব ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২-০৫-২০২২, ৭:১৮ অপরাহ্ন
চতুর্থ স্তম্ভ:  ধনখড় সাহেবের রাতে ঘুম হয় না
জগদীপ ধনখড়

খবরে প্রকাশ, রাজ্যের রাজ্যপাল, শ্রীল শ্রীযুক্ত জগদীপ ধনখড় সাহেবের রাতে ঘুম হচ্ছে না৷ দেশের প্রধান সেবকের অবিমৃষ্যকারিতা এবং বরাবরের মতই কিছুই জানা না থাকার ফলে, দেশের অন্য প্রান্তের বা আমাদের মতও রাজ্যেও কয়লার অভাবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে, পাওয়ার কাট হচ্ছে বটে৷ কিন্তু রাজভবন তো ভিআইপি জোন৷ অতএব সেখানে বিদ্যুৎ এর সমস্যা নেই৷ আমাদের ট্যাক্সের পয়সায়, ওনার এসি বা পাখা চলে, আলো জ্বলে, তাতে কোনও ছেদ আসেনি। তিনি সাতসকালে অভ্যেস মতন খড়কে কাঠি বের করছেন৷ প্রতিদিন নিয়ম করে, টুইট করছেন, মুখ্যমন্ত্রী ব্লক করেছিলেন, তুলে নিয়েছেন৷ কাজেই খড়কে কাঠি ব্যবহার হল না বলে, ঘুম নেই এমনটাও নয়। এমনিতে ঘুম না হলে আমরা রহমানিয়ার থেকে রাং এর মাংস, বাজার থেকে কেনা কচি পেঁপে দিয়ে, পাতলা করে ঝোল খাবার কথা আমার ঠাকুমা বলতেন৷ কিন্তু উনি সম্ভবত নিরামিষাসি৷ কাজেই সে নিদানও কাজে দেবে না৷ ওনার কোনও বাঙালি রাঁধুনি নেই৷ থাকলে গাঁদাল পাতার ঝোল করে দিতে বলতাম৷ পেট ঠান্ডা হয়, ঘুমও আসে।

ঘুম আনার আরও কিছু পদ্ধতি আছে৷ ওষুধও আছে৷ কিন্তু সবথেকে জরুরি ব্যাপার হল, ঘুম কেন আসছে না, কেন ঘুম আসিতেছে না? নিন্দ নাহি আঁখিপাতে তো বুঝলাম, কেন নাহি? সেটা জানাটা প্রথম কাজ। তো বই এ পড়েছিলাম, কিছু লোকজন আছে, যারা ভালো দেখতে পারে না৷ কারোর ভালো দেখলে তাদের গা চিড়বিড় করে, মাথা গরম হয়ে যায়, রাতে ঘুম আসে না। ধনখড় সাহেব রাজ্যপাল তো এই বাংলারই৷ থাকেন এই বাংলার সবথেকে আলিশান মহল, রাজভবনে৷ খাওয়াদাওয়া, পকেট খরচও আম আদমির ট্যাক্সের পয়সায়৷ কিন্তু বাংলার শাসক দল নয়, উনি বাংলার বিরোধী দলের প্রতিনিধি। রাজভবন, উনি আসা ইস্তক বিরোধী দল দফতর হয়ে উঠেছে, বলাই যায়। এবং কোন বিরোধী দল? বিজেপি, যারা বাঙালি বিরোধী, বাংলা বিরোধী, বাংলার সংস্কৃতি পরধর্ম সহিষ্ণুতার, বিজেপির সংস্কৃতির ঠিক উলটো৷ বাংলার সংস্কৃতি হিন্দু মুসলমান ভাইচারা৷ আমাদের ঠাকুর বলে গিয়েছেন, মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান৷

সেই বাংলার বিরোধী নেতা খুল্লম খুল্লা বলেছেন, আমাদের ওই ৩০% ভোট চাই না৷ মুসলমানদের ভোট চাই না৷ বিজেপি বাংলা বিরোধী, বিজেপি বাঙালি বিরোধী। রাজ্য চালাতে হলে টাকা দরকার, সরকারি কর্মচারিদের মাইনে, শিক্ষকদের মাইনে, রাস্তা ঘাট, আলো, বিভিন্ন পরিকল্পনা করার জন্য টাকা চাই৷ কোথা থেকে আসবে? রাজ্যের একমাত্র আয়ের পথ পেট্রল ডিজেল ইত্যাদির ওপর ট্যাক্স, এক্সাইজ ডিউটি, আর রাজ্যের পাওনা জিএসটির অংশ। রাজ্যকে তার জিএসটির অংশ দেওয়া হচ্ছে না৷ ঠিক এই মুহুর্তে আমাদের বাংলা কেন্দ্রের কাছ থেকে ৫০,৪৮৬ কোটি টাকা পায়৷ যে টাকা দেওয়া হচ্ছে না৷ দেওয়া তো হচ্ছেই না, উলটে দেশের প্রধান সেবক বলছেন, পেট্রল ডিজেলের দাম বড্ড বেড়ে গিয়েছে৷ রাজ্যগুলোর উচিত রাজ্যের ট্যাক্স, রাজ্য যে কর চাপিয়েছে, তা কমিয়ে দেওয়া৷ মানে রাজ্যকে তার জিএসটির বকেয়া দেওয়া হবে না৷ রাজ্যকে পেট্রল ডিজেলের ওপর ট্যাক্স কমাতে হবে৷ রাজ্য শুকিয়ে মরুক, বাংলার সর্বনাশ হোক, এটাই ওনার ইচ্ছে৷ বিজেপির ইচ্ছে, রাজ্যপালের আলাদা ইচ্ছে হওয়ার জো নেই৷ কাজের সাত সকালে উঠে ১০৮ বার বাংলার খারাপ কিছুর প্রার্থনার পর খবর পেলেন, বাংলার দুটো বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা আর যাদবপুর, তার ব্যবস্থা, মেধা, গবেষণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দেশের সবথেকে ওপরে, খবর পেলেন মেধা তালিকায় থাকা দেশের গবেষক বিজ্ঞানীদের মধ্যে ২০ জন এই বাংলার, কি কাণ্ড বলুন তো? এরপর খাবার হজম হবে? খাবার হজম না হলে ঘুম হবে? স্বাভাবিক ঘুম হচ্ছে না, রাজ্যপাল ধনখড় সাহেবের ঘুম হচ্ছে না৷

৬২ টা দেশের, ৫৫২টা বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য আর পরিসংখ্যান ঘেঁটে, ইউনেস্কো জানালো, আমাদের বাংলার ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প সব্বার ওপরে৷ সবে খানিক ডাল বাটি চুর্মা খেয়ে জল খাচ্ছিলেন রাজ্যপাল সাহেব৷ খবর পাওয়া ইস্তক অম্বল, মানে এটাই নাকি খবর, গোপন সূত্রে খবর। ব্যস, আর ঘুম হয়? নিঁদ নাহি আখিঁপাতে। ধরুন স্কচ অ্যাওয়ার্ড, ২০২১ এর তালিকা, বাংলা শস্য বীমা প্রকল্প পুরস্কার পেয়েছে৷ মানে কৃষকরা চাষ করবেন, বন্যা, ঝড়, খরাতে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন, সরকার থেকে কৃষিবীমা করে দেওয়া হচ্ছে, বাংলার কৃষকরা খানিকটা হলেও সাহায্য পাচ্ছেন, একটা ঝড় এসে মাঠ আর ক্ষেতের ফসল তছনছ করে দেওয়ার পর, কপালে হাত দিয়ে বসে থাকতে হত৷ এখন হয় না৷ ধনখড় সাহেবের দুঃখ, ঘুম আসছে না।

২০২১ এই বাংলা কৃষি সেচ যোজনাও পুরস্কার পেয়েছে৷ কেবল আকাশের ওপরেই ভরসা নয়, সেচ যোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ছে৷ সেই প্রকল্প পুরস্কার পেল, সরকার খুশি, কৃষকরা খুশি কিন্তু ওনার মনে দুঃখ, রাতে ঘুম নেই। রাজ্যের কৃষি দফতর আরেকটা পুরস্কার পেয়েছে৷ কৃষি কাজের যন্ত্রপাতি যাতে সহজে ভাড়ায় পাওয়া যায়, তারজন্য একটা প্রকল্প হয়েছে, সেখান থেকে ধান কাটার যন্ত্র ইত্যাদি চট করে, ন্যায্য মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে৷ ঘুম ঘুম তারা ঝিকিমিকি চাঁদ রাজভবনের ওপরে, কিন্তু তেনার চোখে ঘুম নেই। এরপর পশু ও মৎস্য পালন বিভাগ, তাদের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণাস্বীকৃতি পেল, পুরস্কার পেল, ২০২১ এর স্কচ অ্যাওয়ার্ড৷ রাজ্যের রাজ্যপালের চোখে ঘুম নেই৷ বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন তাদের শুখা আর অকৃষিযোগ্য জমির রুপান্তর ঘটিয়েছে৷ সেখানেও চাষ হচ্ছে, বিভিন্ন সবজি, ফসল। সেই প্রকল্প পুরস্কার পেল৷ দুঃখের বাণ ডাকিল রাজভবনে৷ তিনি ঘুমোতে পারছেন না৷ ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছেন সিলিং এর দিকে, ঘুম নাই।

এমএসএমই আর টেক্সটাইল সেক্টরে লাইসেন্স এখন অটো রিনিউয়াল হচ্ছে৷ মানে আবার যাওয়া ফর্ম দেওয়া ইত্যাদির হ্যাপা নেই৷ তো এই প্রকল্প সারা ভারতের মধ্যে অভিনব এবং কার্যকরী৷ তাই স্কচ অ্যাওয়ার্ড পেল৷ অটোমেটিক্যালি উনিও দুঃখ পেলেন৷ জাগরণে যায় বিভাবরী, চোখের পাতা পড়ছে না। ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প আর বস্ত্র শিল্পের জন্য সিঙ্গল উইনডো, এক জানলা নীতি লাগু হল, মানে এক জায়গায় যান, যতরকমের প্রয়োজনীয় তথ্য, অনুমতি ইত্যাদি পেয়ে যাবেন৷ শিল্পসাথী, এই প্রকল্পও সারা ভারতের দৃষ্টি কেড়েছে, ঘুম কেড়েছে ধনখড় সাহেবের৷ শিল্প হইলে চাকরি হইবে, চাকরি মিলিলে আরও বেশি সমর্থন, এ তো আর সহ্য হয় না। এই বাংলার শিল্প, বাণিজ্য দফতর আর খনিজ উত্তোলন ও বাণিজ্য বিভাগ, ২০২২ এ স্কচ আওওয়ার্ড পেয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গ পশু ও মৎস্যপালন বিশ্ববিদ্যালয়, এ বছরের স্কচ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে৷ কি কাণ্ড বলুন তো৷ এর পরেও ধনখড় সাহেবের ঘুম আসবে? আসা উচিত? ২০২১ এ বাংলার উচ্চশিক্ষা দফতর স্কচ অ্যাওয়ার্ড পেল৷ পুরস্কার নিলেন সচিব মনীষ জৈন৷ এদিকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ধনখড় সাহেবের তো চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে৷ তিনি কাঁদবেন না ঘুমোবেন? কেবল উচ্চশিক্ষা নয়, বাংলার স্কুল শিক্ষা বিভাগও ওই একই পুরস্কার পেয়েছে৷ যে স্কুলে পড়ানো হয়, রাতে ঘুমানোর আগে মশলাদার খাবার খাওয়া উচিত নয়৷ বহুক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া, মোবাইল নিয়ে কাজ করা উচিত নয়৷ মনকে শান্ত রাখা উচিত৷ ভালো ভালো কথা, মনীষীদের জীবনী পাঠ করা উচিত৷ তাহলে রাতে ভালো ঘুম হবে৷ কিন্তু ধনখড় সাহেবের সবটাই তো উলটো৷ ঠিক যে সময় প্যাঁচা কোটর থেকে বেরিয়ে এসে ভাবে, ধরা যাক দু একটা ইঁদুর এবার, সেই সময়ে তাঁরও ঘুম নেই।

হিন্দু ধর্মে বহু কথা, বহু ভালো ভালো কথা আছে৷ ধরুন অহিংসার কথা, ধরুন সত্যি কথা বলার কথা, এসব তো আছে৷ ওই হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রেই এক জায়গায় বাণপ্রস্তের কথাও লেখা আছে৷ অনেক তো হল, জন্মালেন, বড় হলেন, বিয়ে শাদি করলেন বা করলেন না, অনেক কাজ টাজ করার পর, অনেক ছকবাজি করে টিঁকে থাকার পর খেয়াল করলেন, বয়স হয়েছে, দাঁত খুলে হাতে এসে যাচ্ছে, পা, হাত আর তেমন বসে নেই, সেরকম সময়ে হাতের খড়কে কাঠি ফেলে অবসর নিতে হয়, কোথাও নিভৃত যাপনে যেতে হয়, স্বল্প আহার, পড়াশুনো নিয়ে থাকতে হয়, শুনেছি মন প্রসস্ত হয়, এবং রাতে ভাল ঘুম আসে। স্যার, এবার খড়কে কাঠি ফেলে বাণপ্রস্থে যান, সেখানে আপনার জন্য ঘুম অপেক্ষা করে বসে আছে।

Tags : 4th pillar of democracy, Jagdeep Dhankhar,

শেয়ার করুন


© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.