ওয়েব ডেস্ক : কৃত্রিম সূর্য (China Artificial Sun) তৈরির পথে বড় সাফল্য পেল চীন (China)। নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির জন্য বিশ্বের বৃহত্তম সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন ম্যাগনেট তৈরি ও পরীক্ষায় সফল হয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পরিষ্কার, নিরাপদ এবং প্রায় সীমাহীন শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
চীনের (China) চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর অধীন ইনস্টিটিউট অফ প্লাজমা ফিজিক্স এই বিশাল ফিউশন ম্যাগনেট তৈরি করেছে। ডি-আকৃতির এই ম্যাগনেটের দৈর্ঘ্য ২১ মিটার, প্রস্থ ১২ মিটার এবং ওজন প্রায় ৫৮২ টন। এই ম্যাগনেট ফিউশন রিঅ্যাক্টরের ভিতরে অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করবে। যার মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
কৃত্রিম সূর্য China Artificial Sun হল এমন একটি নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর, যেখানে সূর্যের মতো প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন পরমাণুকে মিলিয়ে বিপুল শক্তি উৎপন্ন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয় না। তাই ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎস হিসেবে ফিউশন প্রযুক্তিকে দেখা হচ্ছে।
আরও খবর : বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩৮, ধ্বংসস্তূপে এখনও উদ্ধারকাজ জাপানে
গবেষকদের দাবি, চীনের (China) তৈরি এই ফিউশন ম্যাগনেট আগের আন্তর্জাতিক প্রকল্পগুলির তুলনায় আরও শক্তিশালী। এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ দেশীয় উপকরণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। আগামী দিনে ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউশন শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ।
এর আগে চিনের Experimental Advanced Superconducting Tokamak (EAST), যা কৃত্রিম সূর্য নামে পরিচিত, ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় প্লাজমা ধরে রেখে রেকর্ড তৈরি করেছিল। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন শক্তি উৎপাদনের আগে আরও অনেক পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।







