ওয়েব ডেস্ক: ফের একবার খবরের শিরোনামে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War)। রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী টুয়াপসে বন্দরে ব্যাপক মাত্রায় ড্রোন হামলা (Drone Attack) চালাল ইউক্রেন। হামলার পরই ভয়াবহ আগুনে জ্বলে ওঠে তেল টার্মিনাস। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে তেলের ডিপোগুলি। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে কোনও প্রাণহানির কোনও খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, রবিবার গভীর রাতে ইউক্রেনের তরফে এই ড্রোন হামলা শুরু হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রুশ বাহিনী ১৬৪টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি মস্কোর। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় হামলার হুমকি ট্রাম্পের! কেন?
রুশ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলার ফলে টুয়াপসে বন্দরের বহু তেল সংরক্ষণাগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণে জ্বালানি সরবরাহেও ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও রুশ কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে, এবং এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার জ্বালানি ভাণ্ডার। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, পাইপলাইন এবং ডিপোগুলিকে নিশানা বানাচ্ছে— যাতে পুতিন প্রশাসনের অর্থনৈতিক জোগান এবং জ্বালানি ব্যয় বাড়ে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত অক্টোবরে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি পরিকাঠামোয় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যাতে অন্তত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছিল।
