ওয়েব ডেস্ক : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flood) ছ’দিন পরেও কাটেনি বিপর্যয়ের রেশ। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটির আটটি বিপর্যস্ত জেলা থেকে এক হাজারের বেশি জনের দেহ (Dead Body) উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এখনও প্রায় চার হাজার মানুষের কোনও খোঁজ নেই। বিপর্যয়ের পর থেকে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বান (Flood) এবং হিমবাহ ধসের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক এলাকা। নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জানিয়েছে, চিতওয়ান থেকে ৩২১টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। নওয়ালপারাসি পূর্বে ২১৬, নওয়ালপারাসি পশ্চিমে ১৭০, নুয়াকোটে ৯৫ এবং গোর্খায় ৬৫টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। ধড়িং, রাসুয়া এবং তানাহুন থেকেও বহু দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিব্বতে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর দাবি করেছে চীনা সংবাদমাধ্যম।
আরও খবর : সমুদ্রের জল বাড়ছে, কলকাতা-মুম্বইয়ে বিপদের মুখে ১.৪ কোটি মানুষ!
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে ঘুরছেন বহু পরিবার। দিনের পর দিন কোনও সন্ধান না মেলায় অনেকেই আশা ছেড়ে দিচ্ছেন। মঙ্গলবার বেশ কিছু নেপালি পরিবার নিখোঁজ আত্মীয়দের প্রতীকী শেষকৃত্যও করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নেপালে (Nepal) মৃত ভারতীয়দের (Indians) শনাক্তকরণ এবং তাঁদের দেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দিয়েছে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস। মোট ন’টি ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। দেহ নথিভুক্তকরণ, ছবি ও তথ্য সংগ্রহ, ময়নাতদন্ত, মৃত্যুর কারণ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, ডিএনএ ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ এবং দূতাবাসের সহযোগিতায় দেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটে উদ্ধার হওয়া দেহগুলির ছবি দেখে কেউ নিখোঁজ আত্মীয়কে শনাক্ত করতে পারলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত না হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণের ব্যবস্থা করা হবে। এখনও পর্যন্ত নতুন করে কোনও ভারতীয় নাগরিক উদ্ধার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
