ওয়েব ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) তিনটি এফআইআর-সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৬ অগাস্ট পর্যন্ত ভবানীপুর, কালিতলা এবং বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ অগাস্ট।
শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু দাবি করেন, একাধিক পৃথক অভিযোগের ক্ষেত্রে সামগ্রিক সুরক্ষাকবচ চাওয়া আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে বলেও তিনি আদালতে জানান। এর জবাবে বিচারপতি বলেন, সব এফআইআরের ক্ষেত্রে না হলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি মামলার ভিত্তিতে শুনানি করা যেতে পারে।
আরও খবর : বন্ধ ঘর থেকে মিলল বৃদ্ধ দম্পতির দেহ, সল্টলেকে রহস্যঘেরা মৃত্যুর তদন্তে পুলিশ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ আদালতে দাবি করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও একাধিক এফআইআর একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে একই হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের ২ মে করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট “বাংলা বিরোধী গুজরাতি গ্যাং”-কে কেন্দ্র করে ২৭ মে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এফয়াইয়ার করতে ২৫ দিন দেরি করা হল কেন? বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আবার ২০২০ সালের আমফান-পরবর্তী ঘটনায় ছয় বছর পরে অভিযোগ গ্রহণ করে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এত দেরিতে অভিযোগ গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, তদন্ত চলুক, তবে এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে এই মুহূর্তে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর মনে হয় না। তিনি আরও পর্যবেক্ষণ করেন, ছয়-সাত বছর আগের ঘটনায় হঠাৎ পুলিশের সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, আদালত তদন্তে স্থগিতাদেশ দিচ্ছে না, তবে আবেদনকারীকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে।
রাজ্যের ডিজিপির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা যুক্তি দেন, সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রেও এই ধরনের আবেদন নিম্ন আদালতে করা হয়, একাধিক এফআইআরের বিরুদ্ধে একসঙ্গে সুরক্ষাকবচ চাওয়া যায় না। এর জবাবে বিচারপতি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়েরের ঘটনাও সচরাচর দেখা যায় না।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আইনজীবী এফআইআরগুলি খারিজের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন এফআইআর দায়েরের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানান। তবে এস ভি রাজু বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এফআইআর খারিজ করা যায় না। কেবল অভিযোগ দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে মামলাও বাতিল করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি হলফনামা দাখিলের জন্য সময় চান।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, আপাতত তদন্ত চলবে, তবে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত ভবানীপুর, কালিতলা ও বিষ্ণুপুর থানার সংশ্লিষ্ট তিনটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির মতো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে।







