KolkataTV

‘অভিষেক নয়, মমতার নেতৃত্বেই আস্থা’, শর্ত বেঁধে বার্তা ‘নব্য তৃণমূল’-এর মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের

কলকাতা: নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে তৈরি হওয়া বিভাজন আরও স্পষ্ট হল রবিবার। ‘নব্য’ বা ‘আসল তৃণমূল’-এর মুখ্য সচেতক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, তাঁদের আপত্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিয়ে নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঘিরেই। তাঁর দাবি, অভিষেকের হাত ছাড়লে তাঁরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই থাকতে প্রস্তুত।

রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “অভিষেকের হাত ছাড়লে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা তাঁর সঙ্গেই আছি।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রাম থেকেই রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা, ১৫ জুন সভা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একাংশের বিধায়ক আলাদা পরিষদীয় ফ্রন্ট গঠন করেছেন। বর্তমানে ৬৪ জন বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে রয়েছেন ঋতব্রত, আর মুখ্য সচেতক হয়েছেন আখরুজ্জামান।

এতদিন বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। বরং তাঁকে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা বা ‘মেন্টর’ হিসেবে মেনে চলার কথা বলেছিলেন। তবে এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি শর্তের সুর শোনা গেল। আখরুজ্জামানের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিলে তাঁরা মমতার নেতৃত্বে থাকার বিষয়ে ভাবতে পারেন। অন্যথায় তাঁরা জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ার পথে হাঁটবেন।

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন। এর আগেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের সংগঠন পরিচালনার ধরন নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন।

এদিকে শুধু বিধানসভাতেই নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, তাঁদের শিবিরে সাংসদ সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২২-এ পৌঁছেছে এবং তাঁরা আলাদা ফ্রন্ট গঠনের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী বিধায়কদের এই বার্তা একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল, তেমনই অন্যদিকে তৃণমূলের মূল রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতীককে নিজেদের দখলে রাখার দাবিও স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

Exit mobile version