ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার দাবি মেনে নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের পর নতুন করে আলোচনায় পরিবেশকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলন-পরবর্তী তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে আন্দোলনের নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সোমবার গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সোনম ওয়াংচুক দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানেই তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, “ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ সূচনামাত্র। প্রকৃত পরিবর্তন আসবে সংস্কারের মাধ্যমে।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার আন্দোলনকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
সোনম আরও বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ, আন্দোলনের নেতৃত্বের তরফে সব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। সোনমের বক্তব্যে ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী’ শব্দবন্ধ ব্যবহৃত হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, তিনি শান্তিপূর্ণ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টানতে চেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্দোলনের সাফল্যের পর ভবিষ্যৎ কৌশল ও অবস্থান নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে মতের অমিল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। যদিও এই বিষয়ে আন্দোলনের অন্য নেতাদের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সোনম ওয়াংচুক অবশ্য গোটা আন্দোলনের সাফল্যের কৃতিত্ব অহিংস প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকেই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জনগণের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে পারলেই সরকার শেষ পর্যন্ত মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয়। ফলে আন্দোলনের পরবর্তী অধ্যায়ে তাঁর এই বার্তা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।







