কলকাতা: বারুইপুরের (Baruipur) বহুচর্চিত ধর্ষণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৮ অগস্ট।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন শিলাদিত্য রক্ষিত। তাঁর পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে দাবি করেন, গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল না। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা সঠিক থাকলে অভিযুক্ত পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিতে পারত না। পুলিশের এই দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেও আদালতে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদনও জানান।
আরও খবর : বন্ধ ঘর থেকে মিলল বৃদ্ধ দম্পতির দেহ, সল্টলেকে রহস্যঘেরা মৃত্যুর তদন্তে পুলিশ
অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদ্বীপ মজুমদার আদালতে জানান, ৭ তারিখ গভীর রাত এবং ৮ তারিখ ভোরে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ চলাকালীন অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল আচমকাই এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। তাতে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হন। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
রাজ্যের দাবি, এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তভার বর্তমানে সিআইডির হাতে রয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইন মেনেই সুরতহাল-সহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে জেলা পুলিশের বিস্তারিত হলফনামা অপরিহার্য। সেই কারণেই রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। আগামী ১৮ অগস্ট আদালতে ওই রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।







