ওয়েব ডেস্ক : দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার করতে রাজ্য পুলিশের অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)-কে শক্তিশালী করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের পুলিশ সার্ভিস সেলের নির্দেশে গোয়েন্দা শাখা (IB) থেকে তিনজন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে দুর্নীতি দমন শাখায় ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। সোমবার জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ডেপুটেশনের মেয়াদ দুই মাস রাখা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আইবির আইজিপি মুরলিধর শর্মা, ডিআইজি আকাশ মাঘারিয়া এবং সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট কামনাশিস সেন এবার এসিবিতে দায়িত্ব পালন করবেন। শুধু এই তিন আইপিএস নন, রাজ্যের বিভিন্ন ইউনিট থেকে আরও ১৬ জন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীকেও দুর্নীতি দমন শাখায় পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন ডিএসপি, আটজন ইন্সপেক্টর, তিনজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং চারজন কনস্টেবল। এসটিএফ, সিআইডি, আইবি, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি গ্রামীণ, কৃষ্ণনগর, সুন্দরবন পুলিশ জেলা ও হাওড়া জিআরপি-সহ একাধিক ইউনিট থেকে এই ডেপুটেশন করা হয়েছে।
আরও খবর : পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান হলেন অনিল বর্মা
সূত্রের খবর, রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে বিশেষ দক্ষ জনবল বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বারবার তুলে ধরেছেন। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সেই নীতির বাস্তবায়নেই এসিবিকে আরও কার্যকর করতে এই বড় রদবদল করা হয়েছে।
মুরলিধর শর্মা, আকাশ মাঘারিয়া এবং কামনাশিস সেন তিনজনই রাজ্য পুলিশের (Police) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন। মুরলিধর শর্মা আগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনার ও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ছিলেন। আকাশ মাঘারিয়া হাওড়া পুলিশ কমিশনার, কলকাতা পুলিশের ডিসিপি (দক্ষিণ) এবং ডিআইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কামনাশিস সেন পূর্ব বর্ধমান ও বারুইপুরের পুলিশ সুপার এবং বিধাননগরের ডিসিপি (নিউ টাউন) পদে কাজ করার পর বর্তমানে আইবির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। এবার এই তিন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারের হাতেই তুলে দেওয়া হল দুর্নীতি দমন শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।







