ওয়েব ডেস্ক: আজ স্মার্টফোন (Smart Phone) ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করা কঠিন। কথা বলা, ব্যাঙ্কিং, পড়াশোনা, অফিসের কাজ থেকে কেনাকাটা, সবই এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই মোবাইল বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল আজকের দিনেই, ১৯৯৫ সালের ৩১ জুলাই।
সেদিন ভারতের টেলিকম ইতিহাসে প্রথম মোবাইল ফোন কল করেছিলেন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং থেকে তিনি ফোন করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সুখরামকে, যিনি তখন দিল্লিতে ছিলেন। কয়েক মিনিটের সেই কথোপকথনের মধ্য দিয়েই দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সেলুলার মোবাইল পরিষেবার পথচলা।
আরও খবর : কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি
সেই সময় মোদি গ্রুপ ও অস্ট্রেলিয়ার টেলস্ট্রার যৌথ উদ্যোগে গঠিত সংস্থা মোদি টেলস্ট্রা ‘মোবাইলনেট’ নামে জিএসএম প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা চালু করে। ওই প্রযুক্তির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছিল ভারতের প্রথম মোবাইল ফোন কল। জ্যোতি বসু ও সুখরাম, দু’জনেই নোকিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায়।
তবে তখন মোবাইল ফোন ছিল বিলাসবহুল প্রযুক্তি। একটি হ্যান্ডসেট কিনতেই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হত। শুধু ফোন করাই নয়, ফোন রিসিভ করলেও আলাদা চার্জ গুনতে হত। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল এই পরিষেবা। মূলত ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাই মোবাইল ব্যবহার করতেন।
পরবর্তী সময়ে টেলিকম ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ে, কলের খরচ কমে এবং মোবাইল ফোনের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসে। এরপর ২জি, ৩জি, ৪জি পেরিয়ে এখন ৫জি পরিষেবার যুগে পৌঁছে গিয়েছে দেশ। বর্তমানে ভারতের মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি। শহর থেকে গ্রাম—প্রায় সর্বত্রই পৌঁছে গিয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক।







