KolkataTV

ফুটপাথে দুধ গরমের ঘটনায় মমতার মানবিক বার্তা, অসহায় পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিলেন মমতা

কলকাতা: পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে নাতির জন্য দুধ গরম করার ঘটনায় এক অসহায় বৃদ্ধাকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ধমক দেওয়ার ঘটনা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এবার সেই ঘটনায় মুখ খুললেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার সমালোচনা করে তিনি ওই পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এমনকি পরিবারটি রাজি থাকলে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা এবং শিশুটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি কয়েকদিন আগে পার্ক স্ট্রিট এলাকায় ঘটে। অভিযোগ, ফুটপাথের উপর নাতির জন্য দুধ গরম করছিলেন এক বৃদ্ধা। রাস্তার উপর এইভাবে আগুন জ্বালানোয় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁকে দুধ গরম করতে নিষেধ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি বৃদ্ধার কাছে তাঁর বাড়ির ঠিকানাও জানতে চান তিনি। উত্তরে ওই মহিলা জানান, বাড়ি থাকলে তিনি কেন রাস্তায় থাকবেন! তাঁর দাবি, প্রায় ৫০ বছর ধরে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতই তাঁর ঠিকানা।

আরও খবর : আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, রক্ষাকবচ মহুয়া মৈত্রর! ৩১ অগস্ট পর্যন্ত পুলিশের পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা

ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, অসহায় ওই মহিলার সঙ্গে আরও মানবিকভাবে কথা বলা যেত কি না। বিতর্কের মধ্যে সোমবার একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তার কারণে ওই মহিলাকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি হয়তো আরও ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত ছিল।

এরপরই সোমবার ফেসবুক লাইভে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষকে ঘৃণা না করে তাঁদের পরিস্থিতি বোঝা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, যে মা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সন্তানের জন্য দুধ তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছেন, তিনি নিঃসন্দেহে অসহায়। শিশুটির খাবার ফেলে দিতে বলার বিষয়টিও তিনি সমালোচনা করেন।

মমতা বলেন, “মায়ের অভিশাপ, বড় অভিশাপ।” এরপরই ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। মমতা জানান, পরিবারটি রাজি থাকলে কোনও কর্মীর বাড়িতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি শিশুটির পড়াশোনার দায়িত্বও নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি উঠে এসেছে শহরের ফুটপাথে বসবাসকারী অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার প্রশ্নও। একদিকে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে এমন মানুষদের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

Exit mobile version