কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রতীক ‘জোড়াফুল’ ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়তেই বিকল্প প্রস্তুতি শুরু করেছে কালীঘাটপন্থী শিবির। দলীয় সূত্রের দাবি, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে যদি জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হয়, তবে নতুন প্রতীক নিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে নতুন প্রতীকও হবে ‘ফুল’-কেন্দ্রিক। একই সঙ্গে জোড়াফুল প্রতীক ফিরে পেতে আইনি লড়াইও চালিয়ে যাবে কালীঘাট শিবির।
বর্তমানে তৃণমূলের কালীঘাট ও ঋতব্রত শিবির, দু’পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের প্রকৃত দল বলে দাবি করেছে। কমিশন উভয় পক্ষের কাছেই প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে। কালীঘাট শিবির ইতিমধ্যেই নথি জমা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও ঋতব্রত শিবিরের তরফে এখনও সমস্ত কাগজ জমা পড়েনি বলেই খবর।
আরও খবর : দফায় দফায় বৃষ্টি কলকাতায়, আগামী সপ্তাহে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
১৯৯৭ সালে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত প্রায় তিন দশকে এই প্রতীক তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভোটারদের আবেগের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাই প্রতীক হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও সেটি ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেই ব্র্যান্ড। প্রতীক একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় মাত্র।” অন্যদিকে সাংসদ সৌগত রায়ের বক্তব্য, কমিশনের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকেন। প্রয়োজন হলে এ ক্ষেত্রেও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদীয় এবং সাংগঠনিক স্তরে যে শিবিরের সমর্থন বেশি থাকবে, নির্বাচন কমিশন তাদেরই প্রকৃত দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দিতে পারে। সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।







