ওয়েব ডেস্ক : শালবনিতে সরকারি জমি ভুয়ো নথি তৈরি করে বিক্রির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বয়ান এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে এই পর্যায়ে সুমিত রায়কে আগাম জামিন দেওয়া সমীচীন হবে না।
শুনানিতে সুমিত রায়ের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের একটি চাকরি প্রতারণা মামলায় দীর্ঘ তিন বছর পর সুমিত রায়ের (Sumit Roy) নাম জড়ানো হয়েছে। এফআইআরে তাঁর নাম ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবীর বক্তব্য, শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ার কারণেই তাঁর মক্কেলকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে । অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
আরও খবর : অভিষেকের বিদেশ যাত্রা,এক সপ্তাহের মধ্যে শুনানি করবে হাইকোর্ট : সুপ্রিম কোর্ট
এর জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, অভিযোগকারীর বয়ান এবং ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, ২৪ লক্ষ টাকার আর্থিক লেনদেনের মধ্যে ৬ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া সুজয় হাজরা ও আশিক কাজির গোপন জবানবন্দিতেও সুমিত রায়ের নাম উঠে এসেছে বলে আদালতে জানানো হয়।
অন্যদিকে, সুমিত রায়ের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, দুজন অভিযুক্ত এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে। তাদের থেকে কোন ইলেকট্রনিক মেইল,টাকার লেনদেন কোন তথ্য পাওয়া গেছে? যদি সুমিত রায় তেমন প্রভাবশালী হতেন, তাহলে এদের থেকে টাকা নিয়ে চাকরি দিয়ে দিতে পারতেন। তবে শালবনি জমি মামলায় আগাম জামিন না মিললেও, ডেবরায় টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের পৃথক মামলায় সুমিত রায়কে (Sumit Roy) আগাম জামিন দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সেই মামলায় তাঁকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







