কলকাতা: সই জাল কাণ্ডে হাজিরা দিতে কলকাতা ফিরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ২১ দিনের রক্ষাকবচ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৬ টার মধ্যে অভিষেককে সিআইডি দফতরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। সেই নির্দেশ মেনে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে কলকাতা ফিরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দর থেকে বেরনোর মুখে উঠল ‘চোর’ স্লোগান। কোনওরকমে নিরাপত্তারক্ষীদের সহযোগিতায় গাড়িতে ওঠেন তিনি।মনে করা হচ্ছিল, তিনি বিমানবন্দর থেকে ভবানীভবন (Bhawani Bhawan) যাবেন। কিন্তু ভবানী ভবন না গিয়ে কালীঘাটে বাড়ির পথে রওনা হন তিনি।
সই জাল কাণ্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই সিআইডির নজরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পরপর তিনবার হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। এদিকে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিষেককে রীতিমতো ধমক দেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। কেন বারবার হাজিরা এড়াচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিষেকের আইনজীবী জানান, রক্ষাকবচ মিললে তিনি হাজিরা দেবেন। সবরকম সহযোগিতাও করবেন। সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি চন্দ অভিষেককে ২১ দিনের রক্ষাকবচ দেন। তিনি নির্দেশ দেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৬ টার মধ্যে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে অভিষেককে। এদিন বিকেল ৪টে ২০ মিনিটে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছেন অভিষেক। তাঁকে দেখা মাত্রই ওঠে চোর স্লোগান। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।তেমনই অভিষেকের সমর্থক, তৃণমূল ছাত্রপরিষদের তরফে ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগানও ওঠে। সেই সময় একেবারে ঠেলাঠেলি শুরু হয়। কার্যত সুরক্ষা বলয় তৈরি করে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয় অভিষেককে।
আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে তুমুল দুর্যোগ, কোন কোন জেলায় লাল সতর্কতা?
বিকেল পৌনে ৫টার মধ্যে কালীঘাটের বাড়িতে ঢুকে গিয়েছেন অভিষেক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে ভবানী ভবনে সিআইডি-র দফতরে হাজির হতে হবে। বিমানবন্দর থেকে সোজা ভবানীভবন যাননি অভিষেক। বরং কালীঘাট রোজের বাড়িতে ঢোকেন তিনি। আইনি পরামর্শ এবং নথি নিতেই বাড়িতে গেলেন কি না, উঠছে প্রশ্ন। কলকাতা হাইকোর্ট তেমনই নির্দেশ দিয়েছে। সময়ের মধ্যে তিনি ভবানী ভবনে পৌঁছোন কি না, সেটাই দেখার। অন্যদিকে অভিষেক গেলে ভবানী ভবনের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে বিকেলে ভবানী ভবনের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছেন সিআইডি কর্তৃপক্ষ। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দফতরের সামনে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। রয়েছে র্যাফ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাখা হয়েছে কাঁদানে গ্যাসও।







