কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) সরকারি অনুদান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার নিউটাউনের (Newtown) একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবার থেকে সব পুজো কমিটিকে একভাবে অনুদান দেওয়া হবে না। যেসব ক্লাব বা পুজো কমিটি আর্থিকভাবে সরকারি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল, তারাই অনুদান পাবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাদের এই অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যারা ওই টাকার উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করে, তারাই সরকারি সাহায্য পাবে।”
সরকারের নতুন অবস্থান অনুযায়ী, পুজো কমিটির আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে অনুদান দেওয়া হতে পারে। ফলে বিপুল বাজেটের বড় পুজোগুলির ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা বন্ধ হতে পারে বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ২০১৮ সালে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদান চালু হয়। প্রথম বছরে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে সেই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
২০২৫ সালে রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুললেও সরকার তা অব্যাহত রেখেছিল।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এবার অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে ‘এক নিয়ম সবার জন্য’ নীতি অনুসরণ করা হবে না। বরং কোন পুজো কমিটির প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে অনুদানের পরিমাণ, যোগ্যতার মানদণ্ড কিংবা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী একইসঙ্গে দাবি করেন, নতুন নীতির ফলে রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ছোট ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পুজো উদ্যোক্তারাই বেশি উপকৃত হবেন।







