কলকাতা: তিন দশেকেরও বেশি সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সহযোদ্ধা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী দলনেত্রী, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার জন্য লড়াই চালাচ্ছে, নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর একের পর এক মামলায় কল্যাণ পাশে থেকেছেন নেত্রীর। তৃণমূল ক্ষমতায় এল, এবারও একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মামলা, সে সারদা-নারদা হোক, কিংবা নিয়োগ দুর্নীতি কিংবা এসআইআর! জর্জরিত রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেছেন। আর এখন তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত। এই হারের জন্য দলের বেশির ভাগ বিধায়ক সাংসদরা অভিষেকেই দায়ী করেছেন। নানান গেঁরোয় ফেঁসে অভিষেক। হাজারও সমস্যার মধ্যে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলেরই বিধায়কদের সই জাল মামলা। সেই মামলাতেও লড়ছিলেন কল্যাণ। কিন্তু তিনি সরে দাঁড়ালেন। অভিষেকের মামলা থেকে নয়, সূত্রের খবর, তৃণমূলের সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।কল্যাণ পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, “এত ঔদ্ধত্য আমি নিতে পারছি না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) তৃণমূলে থাকলে আমি আর এই দলে থাকব কিনা, তা এবার ভেবে দেখতে হবে।”
হস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সই জাল মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— আজ, বৃহস্পতিবারই অভিষেককে ভবানী ভবনে সিআইডি-র দফতরে হাজিরা দিতে হবে। সেই সঙ্গে উচ্চ আদালত এও সাফ করেছে যে, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করলেই কেবল আইনি রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।হাইকোর্টের এই শুনানির ঠিক আগেই আকস্মিকভাবে অভিষেকের মামলা থেকে সরে দাঁড়ান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন অন্য এক আইনজীবী। তৃণমূলের এই ভাঙনে অভিষেকের আচরণে চটে লাল কল্যাণ।কল্যাণ বললেন, ” মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।”
আরও পড়ুন: ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে আরও চার তৃণমূল সাংসদ! বৈঠকে সায়নী-মালারা
আচমকা সরে গেলেন কল্যাণ? শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়ে গেল, তারপরও কী ঔদ্ধত্য! কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলছে জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। সাড়ে এগারোটার সময়ে একজনকে পাঠিয়েছে। তিনি এসে বললেন, একটা রিট পিটিশন ফাইল হয়েছে, সার্চ নিয়ে। আমি বললাম, তোমরা রিট পিটিশন ফাইল করলে সার্চ, অথচ এটাই তো আমার সাবজেক্ট ম্যাটার অফ্ ক্রিমিন্যাল ডিভিশন। তোমার কেন একবার জানালে না রিট পিটিশন ফাইল করেছো। বলল, না ওপর থেকে ইনস্ট্রাকশন এসেছে। কিশোর দত্ত করছেন। আমি বলে দিয়েছি এর (অভিষেক) সঙ্গে থাকব না। এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। এই উদ্ধত মনোভাব মেনে নেব না। আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।”
অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের নম্বর ওয়ান সৎ রাজনীতিক। ওর জন্য আমাদের চোর-চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় দিদির পাশে আছে। কিন্তু তার পরেও যদি অভিষেক এই রকম ঔদ্ধত্য দেখায়, আমাদের কর্মচারী মনে করে, তা হলে করার কিছু নেই। মমতাদিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তিনি অভিষেককে নিয়ে থাকবেন, না কি আমার মতো যারা অভিষেকের বিরুদ্ধে তাদের নিয়ে থাকবেন।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তৃণমূলের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষস্তরের নেতারা এখন প্রকাশ্যেই অভিষেকের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলছেন। বিক্ষুব্ধ নেতাদের ক্ষোভ— ক্যামাক স্ট্রিটের কর্পোরেট অফিসে ডেকে প্রবীণ নেতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হতো। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও শেষমেশ সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের দেখা না পেয়েই অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে অনেক হেভিওয়েটকে।







