ওয়েব ডেস্ক : সামনেই জন্মাষ্টমী (Janmashtami)। আর ছোট্ট গোপালকে ঘিরে ভক্তদের আবেগের শেষ নেই। জন্মাষ্টমী এলেই তাই ঘরে ঘরে কৃষ্ণের (Lord Krishna) জন্য তৈরি হয় নানা ধরনের পদ। কেউ সাজান মিষ্টি, কেউ ফল, কেউ বা তৈরি করেন হরেক রকমের সাত্ত্বিক খাবার। তবে এত খাবারের মধ্যে ৫৬টি পদই কেন? এই সংখ্যার পিছনে রয়েছে কৃষ্ণের এক বিশেষ লীলার কাহিনি।
প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি বলছে, ব্রজবাসীদের ইন্দ্রের প্রবল বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে গোবর্ধন পর্বত তুলে নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ (Lord Krishna)। ছোট্ট আঙুলের উপর পর্বত রেখে টানা সাত দিন ব্রজবাসীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর মুখে ওঠেনি কোনও খাবার। আর এখানেই রয়েছে ছাপ্পান্ন ভোগের সংখ্যার সূত্র। কথিত আছে, মা যশোদা প্রতিদিন গোপালকে আট বার করে খাবার দিতেন। কিন্তু গোবর্ধন ধারণের সাত দিনে সেই নিয়ম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিপদ কেটে যাওয়ার পর কৃষ্ণের জন্য সাত দিনের আট বেলার খাবার মিলিয়ে মোট ৫৬টি পদ নিবেদনের আয়োজন করেন ব্রজবাসীরা। সেই থেকেই ছাপ্পান্ন ভোগের প্রচলন বলে বিশ্বাস করা হয়। অর্থাৎ ৭ × ৮ = ৫৬।
তবে ভোগের আসল গুরুত্ব পদসংখ্যায় নয়, ভক্তিতে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কৃষ্ণের উদ্দেশে নিবেদিত খাবার সাত্ত্বিক হওয়া উচিত। পেঁয়াজ-রসুন এড়িয়ে নিরামিষ খাবার তৈরির রীতি রয়েছে। কৃষ্ণের ভোগে তুলসীপাতারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই নৈবেদ্যের সঙ্গে তুলসীদল দেওয়ার রীতি বহু পরিবারে আজও মেনে চলা হয়।
ভোগ নিবেদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু প্রচলিত আচার। পরিষ্কার ও পবিত্র পাত্রে খাবার সাজিয়ে কৃষ্ণের সামনে নিবেদন করা হয়। ভোগ দেওয়ার সময় কিছুক্ষণ নিরিবিলি পরিবেশ রাখার রীতিও রয়েছে অনেক জায়গায়।
