KolkataTV

নিপা ভাইরাস ঠিক কতটা মারাত্মক? করোনার মতোই ভয়াবহ?

ওয়েবডেস্ক-  বাংলায় ফের নিপার (Nipah virus) আতঙ্ক! করোনার পরে ফের নিপার বাড়বাড়ন্ত কোভিড (Covid) সময়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বারাসতে দুজন নার্সের শরীরে নিপার ভাইরাস পাওয়া গেছে। তাদের শারীরিক অবস্থা অতি সংকটজনক। দুজনেই কোমায়। অতি সংকটজনক সিস্টার নার্স। পুনের এনআইভি থেকে নমুনা পাঠানো হয়েছিল, সেখা থেকে তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

ব্রাদার্স নার্সের রিপোর্টও পজিটিভ আসবে বলেই অনুমান করছেন চিকিৎসকেরা। যারা তাদের এমন সংস্পর্শে এসেছে, এমন ৬৫ জনকে চিহ্নিত করে আইসোলেশনে (Isolation) পাঠানো হয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্য ও কেন্দ্র একযোগে নিপা প্রতিরোধে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। নবান্নে গতকালই নিপা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

২০০১ সালে শিলিগুড়ি ও ২০০৭ সালে নদিয়ায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। শিলিগুড়ির আগে বাংলাদেশেও এই ভাইরাস হানা দিয়েছিল। ফের ২০২৬ এর বছর পড়তে না পড়তেই বাংলায় হানা দিল এই নিপা ভাইরাস। যা আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছে।

মানুষের প্রশ্ন করোনার মতোই মারাত্মক এই ভাইরাস?

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই ভাইরাসের মধ্যে কিছু অমিল আছে। করোনা ভাইরাস ছড়ায় দ্রুত, সেই তুলনায় মৃত্যুর হার কম, নিপা ভাইরাসের সংক্রমণে হার কম, তবে সেই তুলনায় মৃত্যু হার বেশি। ২০১৮ সালে কেরলে একজনের দেহে প্রথমে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটায়, পরবর্তী ক্ষেত্রে ২১ জন আক্রান্ত হয়েছিল। পরে সেই আক্রান্তের সংখ্যা দুই-এ নেমে যায়। এর থেকে এটাই আশার আলো যে, প্রথম সংক্রমণের পরে ধীরে ধীরে হার কমতে থাকে। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো, লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছিল সংক্রমণে হার। দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল এক রাজ্য থেকে অপর রাজ্যে। সেক্ষেত্রে নিপা ছোট এলাকা ও সীমাবদ্ধ একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়ায়।

করোনার সংক্রমণ ছড়ায় মানুষ থেকে মানুষে। নিপা ছড়ায় পশু থেকে মানুষে। এক্ষেত্রে ভিলেন পোষ্য শুয়োর বা গরু ছাগল- বাদুড়ের খাওয়া ফল, যা জীবাণূর বাহক হয়ে উঠতে পারে। নিপা ছড়াচ্ছে বাদুড় থেকে মানুষে। বাদুড়ের ঠুকরে খাওয়া ফল, তাল-খেজুরের রস বা গৃহপালিত পশু এ ক্ষেত্রে বাহক হতে পারে। তাই এই সময় ফল ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। গাছ থেকে নামানো খেজুরের রস এড়িয়ে যাওয়া প্রয়োজন। গুড়ের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই।

করোনায় হাঁচি-কাশির ড্রপলেট থেকে ভাইরাস ছড়িয়েছিল। কিন্তু নিপায় দেহরস বা ‘বডি ফ্লুইড’ (বমি, প্রস্রাব) এর থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে।

উপসর্গ

নিপার ক্ষেত্রে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, স্নায়ুর সমস্যা, খিঁচুনি এমনকি এনসেফেলাইটিসও দেখা দিতে পারে। ৪ থেকে ১৪ দিনের মাথায় উপসর্গ দেখা দিতে পারে। করোনার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা, গা-ব্যথা, হাঁচি-কাশি, শ্বাসকষ্ট।

আরও পড়ুন-  নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সই কোমায়, অতি সংকটে সিস্টার নার্স

 

সতর্কতা

করোনা প্রতিরোধের টিকা আবিষ্কৃত হলেও নিপার ক্ষেত্রে কোনও টিকা নেই। দুই ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে পরীক্ষা করাতে হব, প্রয়োজনে আইসোলেশনে থাকতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট বা এনসেফেলাইটিস একসঙ্গে হচ্ছে কি না সেই দিকটা পর্যবেক্ষণে রাখবেন চিকিৎসকেরা। আক্রান্তের সংস্পর্শে এলেই দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে সেই ব্যক্তিকে, সেই সঙ্গে তার শরীরেও কোনও উপসর্গ দেখা দিচ্ছে না সেইদিকে খেয়াল রাখবেন চিকিৎসকেরা।

বাদুড়ের আধখাওয়া ফল বা শীতের মরসুমের তাজা খেজুরের রস খাওয়া যাবে না।

করোনার মতোই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরা, জমায়েত এড়িয়ে চলা, দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া এগুলি করতে হবে।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকদেরও সতর্ক থাকতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে তাদের পিপি কিট করা প্রয়োজন।

তবে আশার আলো এটাই যে, নিপা ভাইরাস মূলত এলাকাভিত্তিক তাই এই জীবাণুকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ, অপরদিকে করোনা যেহেতু ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাই দ্রুত সক্রমণ হয়, নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল।

 

 

Exit mobile version