নয়াদিল্লি: বিদেশি বলে চিহ্নিত হলেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ডিপোর্ট করা যায় না বলে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জানাল কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মেনেই বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করতে হয়।
অসমের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে আটক বিদেশি-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে সেখানে ২৭০ জন আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৩ জনকে ইতিমধ্যেই বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ওই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে তাঁকে ফেরানো সম্ভব নয়।
আরও খবর : ঘরে বসেই ডিজিটাল জনগণনা, সেলফ এনুমারেশন কীভাবে করবেন? ধাপে ধাপে জেনে নিন
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টও পর্যবেক্ষণ করে, কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার পর অনির্দিষ্টকাল বন্দিশিবিরে আটকে রাখা যায় না। পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্তিসঙ্গত এবং আইনসম্মত হওয়া জরুরি।
কেন্দ্রের দাবি, কোনও বিদেশিকে দেশে ফেরাতে হলে প্রথমে তাঁর পরিচয়, ঠিকানা ও নাগরিকত্ব যাচাই করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার প্রত্যর্পণে সম্মতি জানালে তবেই ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব। বাস্তবে এই পর্যায়েই বহু ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে অসমে আটক বহু ব্যক্তির পরিচয় এখনও বাংলাদেশ সরকার নিশ্চিত করেনি বলে আদালতে জানিয়েছে কেন্দ্র।
একই সঙ্গে কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে, বেআইনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না বলেই তাদের দাবি। তবে বিদেশি নাগরিকদের ফেরানোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের সহযোগিতা না মিললে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সেই কারণেই বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও অনেককে অবিলম্বে নিজ দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বলে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার।







