ওয়েব ডেস্ক: সহানুভূতির ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেওয়া যাবে না। কারুর পদপিষ্ট কাণ্ডে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) সরকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট (Madras High Court)। আদালতের এই রায়ে বড় ধাক্কা খেল মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের সরকার।
গত বছর তামিলনাড়ুর কারুরে রাজনৈতিক সমাবেশে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৪১ জনের। টিভিকে প্রধান তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ক্ষমতায় আসার পর ওই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। ইতিমধ্যেই কয়েকটি পরিবারের হাতে নিয়োগপত্রও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: গোপন চেম্বারে লুকোনো গাঁজা! পুরুলিয়ায় ট্রাক আটকাতেই ফাঁস মাদকচক্র, ধৃত ৭
তবে সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। মামলার শুনানিতে মাদ্রাজ হাই কোর্টের বিচারপতি সি ভি কার্তিকেয়ন ও বিচারপতি আর শক্তিভেলের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, নিয়ম না মেনে শুধুমাত্র সহানুভূতির ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেওয়া সংবিধানের ১৪ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এই দুই অনুচ্ছেদ সরকারি চাকরিতে সমতা ও সমান সুযোগের অধিকার নিশ্চিত করে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, একটি দুর্ঘটনার জন্য সহানুভূতি দেখানো হলেও সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সাংবিধানিক কাঠামো মেনে চলতে হবে। তাই রাজ্য সরকারের ৪১টি পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কারুরের ওই জনসভায় ভিড়ের চাপ সামলাতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় কারুর সফরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন। জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ওয়াচম্যানের মতো পদে কয়েকজনকে নিয়োগও করা হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন এআইএডিএমকে নেতা আর বি উদয়কুমার। তাঁর অভিযোগ ছিল, নিয়ম ভেঙে রাজনৈতিক কারণে চাকরি দেওয়া হলে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া লক্ষ লক্ষ যুবকের প্রতি অন্যায় হবে।
মাদ্রাজ হাই কোর্টের এই রায় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিজয় সরকারের মানবিক উদ্যোগ আইনি পরীক্ষায় আপাতত বড় ধাক্কা খেল।







