নয়াদিল্লি: নয় বিজেপিতে (BJP) মিশে যাওয়া, আপাতত এনডিএ-র শরিক হিসেবেই নতুন রাজনৈতিক পরিচয় পেল NCPI। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে এনডিএ-র (NDA) বৈঠকে তৃণমূলত্যাগী সাংসদদের আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হল। ‘নতুন শরিক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে একই সারিতে দেখা গেল বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। তাঁর পিছনের সারিতে ছিলেন শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ, শর্মিলা সরকার-সহ অন্যান্য সাংসদরা।
আরও পড়ুন: গোপন চেম্বারে লুকোনো গাঁজা! পুরুলিয়ায় ট্রাক আটকাতেই ফাঁস মাদকচক্র, ধৃত ৭
সূত্রের খবর, বৈঠকে সাংসদদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেকের নাম ধরে কথা বলেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি, আসন্ন বিল এবং সংসদীয় কাজের বিষয়ে সাংসদদের বিস্তারিত জানানো হয়।
বৈঠক শেষে শতাব্দী রায় জানান, গোটা কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। তাঁর কথায়, বিভিন্ন বিলের বিষয়, সাধারণ মানুষের জন্য তার প্রভাব এবং সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জুন মালিয়া ও শর্মিলা সরকারও জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন এবং সংসদীয় এলাকার মানুষের জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল ছেড়ে একাধিক সাংসদ NCPI-তে যোগ দেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর তাঁরা বিরোধী অবস্থান ছেড়ে এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন। সংসদে তাঁদের জন্য আলাদা আসনের ব্যবস্থাও করা হয়।
এতদিন প্রশ্ন ছিল, এই সাংসদদের রাজনৈতিক পরিচয় কী হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকের পর সেই জল্পনার অবসান হল। বিজেপিতে সরাসরি যোগ নয়, বরং এনডিএ-র অংশীদার হিসেবেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল NCPI।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে। তবে এই জোটের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে মাঠের রাজনীতি ও আগামী নির্বাচনী সমীকরণের উপর।







