নয়াদিল্লি: শতাব্দী রায়ের (Satabdi Roy) সঙ্গে দিল্লি গেলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে কি তিনিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Banerjee) হাত ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেন? এমন প্রশ্নই ঘুরপার খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। শনিবার দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে এক গাড়িতে দেখা গেল কলকাতা উত্তরের সাংসদকে। দিল্লি বিমানবন্দর থেকে শতাব্দীর সঙ্গে একই গাড়িতে চেপে তিনি রওনা দেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহীদের তালিকায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জুড়তে চলছে। এমন জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। শনিবার তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও এক বিদ্রোহী শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। এদিন সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি যান সুদীপ।শতাব্দীও ওই একই বিমানে দিল্লিতে গিয়েছেন। তারপর শতাব্দীর সঙ্গে পৌঁছন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে।দিল্লি বিমানবন্দর থেকে শতাব্দীর সঙ্গে একই গাড়িতে রওনা দেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির উদ্দেশে।সেখানে ইতিমধ্যে একটি বৈঠক শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘৯০ মিনিট তল্লাশি, ফল শূন্য!’ অভিষেকের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে বিজেপিকে নিশানা সাগরিকা ঘোষের
যে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল গঠন করেছিলেন, সেই সময় তাঁর হাত ধরে বেরিয়ে আসা অন্যতম নেতা ছিলেন সুদীপ। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে মমতার সম্পর্ক চিড় ধরে। ৷ মমতার অন্যতম ঘনিষ্ঠ এবং অনুগত হিসেবেই বরাবর তৃণমূলের অন্দরে পরিচিত ছিলেন সুদীপ।২০০৯ সাল থেকে টানা তৃণমূলের টিকিটে কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পদে রয়েছেন সুদীপ৷ ২০১২ সালে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হন৷ রোজভ্যালি কাণ্ডে গ্রেফতারির পরেও সুদীপের পাশেই দাঁড়ান তৃণমূলনেত্রী৷ ২০২৪ সালেও দলের মধ্যেই বিরোধিতা তৈরি হলেও কলকাতা উত্তর কেন্দ্র থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই টিকিট দেন মমতা৷ একদা মমতা ঘনিষ্ঠ সুদীপের রাজনৈতিক সমীকরণে বদল ঘটতে শুরু করেছে। মমতার হাত ছেড়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিশের দিকে পা বাড়ালেন সুদীপ।
বিধানসভার পরিষদীয় দল হাতছাড়া হয়েছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গত সোমবার লোকসভায় সংসদীয় দলেও ভাঙন প্রকট হয়।দলের সিংহ ভাগ সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। গত সোমবার তৃণমূলে এই ‘সাংসদ-বিদ্রোহ’ যখন প্রকাশ্যে আসে, মমতা-অভিষেক তখন ছিলেন দিল্লিতেই। এক দিকে যখন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক সারছিলেন মমতা-অভিষেক, তখন লোকসভায় চলছিল দলের ভাঙন।বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি দাবি করেন, তাঁদের সঙ্গে প্রায় ২০ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। তাঁরা কেন্দ্রে বিজেপির শাসক-জোট এনডিএ-কে সমর্থন করতে চাইছেন। এরই মধ্যে শনিবার শতাব্দীর সঙ্গে ভূপেন্দ্রের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন কলকাতা উত্তরের তৃণমূল সাংসদ।







