ওয়েব ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) হরদোইয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পরীক্ষায় এক সহপাঠীর নকল করার অভিযোগ জানাতে গিয়ে শিক্ষকের হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর (Student)। অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক ওই ছাত্রীর হাত মুচড়ে দেন। গুরুতর চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ঘটনার ১০ দিন পর মৃত্যু হয় ১৩ বছরের ওই ছাত্রীর।
ঘটনাটি ঘটে গত ২০ আগস্ট। মৃতার বাবা উমেশ দীক্ষিতের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালীন তাঁর মেয়ের কাছে উত্তরপত্র দেখানোর জন্য জোর করছিল এক সহপাঠী। তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা বাধে। এরপর বিষয়টি জানাতে সহকারী শিক্ষক রাজেন্দ্র কুমার গঙ্গওয়ারের কাছে যায় ছাত্রীটি। অভিযোগ, সেখানে সমস্যার সমাধানের বদলে শিক্ষক তাঁর মেয়ের হাত শক্ত করে ধরে মুচড়ে দেন।
বাড়ি ফেরার পর মেয়ের হাতে প্রবল ব্যথা ও ফোলা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে হাতের ভিতরের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, স্নায়ুতে চোট এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো সমস্যার কথা জানানো হয় বলে দাবি পরিবারের। চিকিৎসার খরচ বেশি হওয়ায় আর্থিক সমস্যায় পড়ে পরিবার। পরে ২৬ আগস্ট তাকে ফারুক্কাবাদের ডঃ রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও খবর : বায়ুসেনা থেকে অবসর, এবার যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে অভিনন্দন বর্তমান!
মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আত্মীয়দের পরামর্শে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ঋণও নিতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন উমেশ। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও ৩০ আগস্ট মৃত্যু হয় ১৩ বছরের ছাত্রীর। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ফারুক্কাবাদে দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।
মেয়ের মৃত্যুর পর অভিযুক্ত শিক্ষকের (Teacher) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বাবা। তাঁর আরও অভিযোগ, ঘটনার কথা জানার পর স্কুলে গিয়ে কথা বললে শিক্ষক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে স্কুলের তরফে মেয়ের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। এদিকে ঘটনার তদন্তে নামে বেসিক শিক্ষা দফতর। তদন্তের পর স্কুলের ইনচার্জ শিক্ষক অক্সত এবং সহকারী শিক্ষক রাজেন্দ্র গঙ্গওয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিকিৎসার নথি এবং স্কুলে উপস্থিত শিক্ষক ও পড়ুয়াদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হবে। ওই ছাত্রীর মৃত্যুর সঙ্গে স্কুলে ঘটে যাওয়া ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।
