KolkataTV

পাকিস্তান ও আমেরিকাকে কড়া জবাব! কে এই ভারতীয় সাহসিনী?

ওয়েব ডেস্ক: দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে দেশকে গর্বিত করলেন এক মহিলা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের জয়গান গাওয়ার পাশাপাশি দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিলেন পাকিস্তানকেও। রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে নিজের ছাপ রেখে গেলেন আইএফএস আধিকারিক তথা রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের কূটনীতিক (Indian Diplomat) পেটাল গেহলট (Petal Gahlot)। পাকিস্তানকে একহাত নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তির ঝলকে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকেও কার্যত নস্যাৎ করে দিলেন তিনি। রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে (General Assembly) তাঁর বক্তৃতা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপকে অগ্রাহ্য করেছে নয়াদিল্লি। কিন্তু ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত মেটাতে তিনি মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। এর জবাবে গেহলট স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ভারত ও পাকিস্তান আগেই স্থির করেছে—দ্বিপাক্ষিক সমস্যায় তৃতীয় পক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ চলবে না। সেই সিদ্ধান্তে ভারত আজও অটল।”

আরও পড়ুন: ঝুপড়ি ভেঙে তৈরি হবে ফ্ল্যাট! কী হবে ধারাভির ৩.৫ লক্ষ বস্তিবাসীর?

শুধু ট্রাম্প নন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকেও রীতিমতো তোপ দাগেন তিনি। পাক সেনার তথাকথিত ‘জয়’-এর দাবিকে কটাক্ষ করে গেহলট বলেন, “ভারতের হামলায় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। সেই ক্ষয়ক্ষতির ছবি সকলের জন্য উন্মুক্ত। যদি ভাঙা রানওয়ে আর পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গারকে ওরা জয় বলে মনে করে, তবে সেই জয় উপভোগ করুক।”

এই দৃপ্ত বক্তৃতার পর বিশ্বমঞ্চে শুরু হয়েছে একটাই আলোচনা—কে এই পেটাল গেহলট? নয়াদিল্লিতে জন্মানো গেহলট মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। গত এক দশকে তিনি বিদেশ মন্ত্রকের সহকারী সচিব, প্যারিসে ভারতীয় দূতাবাসে সচিব পদ, এবং সান ফ্রান্সিসকো কনস্যুলেটে কনসাল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।

কূটনীতির পাশাপাশি তাঁর রয়েছে এক অন্য পরিচয়—সঙ্গীতপ্রেমী পেটাল গেহলট গিটার বাজাতে পারদর্শী এবং গান গেয়ে বহুবার মুগ্ধ করেছেন শ্রোতাদের। ইতালীয় গান ‘বেলা সিয়া’ তাঁর কণ্ঠে ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়, আর ইংরেজি গান ‘লস্ট অন ইউ’ পরিবেশনাও বিশেষ প্রশংসিত হয়। আজ ভারতের সেই বীর কন্যা ছাপ রেখে গেলেন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও।

দেখুন আরও খবর: 

Exit mobile version