KolkataTV

মারাঠা দুর্গে নামাজ পাঠ! গোমূত্র ছড়িয়ে শুদ্ধিকরণ BJP সাংসদের

ওয়েব ডেস্ক: পেশোয়া প্রথম বাজিরাওয়ের তৈরি শনিবার ওয়াদায় (Shaniwar Wada) নামাজ (Namaz) পড়েছিলেন মুসলিম ধর্মাবলম্বী কিছু মহিলা। সেই মূহুর্তের ভিডিও ভাইরাল (Viral Video) হতেই সেখানে পৌঁছে গেলেন মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) এক বিজেপি (BJP) সাংসদ। গোমূত্র দিয়ে চলে সেখানে শুদ্ধিকরণ। পরে আবার শিবের বন্দনাও করা হয় পদ্ম শিবিরের তরফে। আর এই ঘটনাকে ঘিরে মহারাষ্ট্রের পুণেতে ফের একবার ধর্ম নিয়ে শুরু হল বিতর্ক। একদিকে বীর মারাঠা শাসকের পবিত্র দুর্গে নামাজ পাঠের বিরোধীতায় সরব বিজেপি, অন্যদিকে বিজেপির এই কর্মকাণ্ডের সমালোচনা শুরু বিরোধী শিবিরে।

গোটা ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মুসলিম মহিলা শনিবার ওয়াদা প্রাঙ্গণে নামাজ পাঠ করছেন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি সাংসদ মেধা কুলককার্ণীর (Medha Kulkarni) নেতৃত্বে হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে প্রথমে গোমূত্র দিয়ে সেই জায়গা পরিষ্কার করেন এবং পরে সেখানে শিবের পুজোও করেন।

আরও পড়ুন: বিহারে নাটকীয় মোড়! RJD প্রার্থীর বিরুদ্ধেই প্রচার তেজস্বীর, কিন্তু কেন?

শুদ্ধিকরণের সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মেধা কুলকর্ণী বলেন, “শনিবার ওয়াদা মারাঠা সাম্রাজ্যের গৌরবের প্রতীক, এটি নামাজ পড়ার স্থান নয়। এটি পুণেবাসীর জন্য উদ্বেগের ও ক্ষোভের বিষয়। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমরা শিবের পুজো করে জায়গাটি শুদ্ধ করেছি। আমরা গেরুয়া পতাকা তুলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কর্মকর্তারা তা চাননি। মুসলিমরা যেখানেই নামাজ পড়ে, পরে সেটি ওয়াকফ সম্পত্তি বলে দাবি করে। এখন হিন্দু সমাজকে সতর্ক হতে হবে।”

তবে বিজেপি সাংসদের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। অজিত পাওয়ারের এনসিপি-র মুখপাত্র রূপালি পাটিল ঠোম্বরে বলেন, “মেধা কুলকার্ণী সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি করছেন, অথচ পুণেতে দুই সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বাস করে।”

এদিকে ঘটনার পর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে নামাজ পড়া অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি শনিবার ওয়াদায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দেখুন আরও খবর: 

Exit mobile version