৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার,
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
K T V Clock
চিতার ধোঁয়াকে এখনও সন্ধ্যারতি ভাবছে প্রায় নিশ্চিহ্ন কংগ্রেস
কলকাতা টিভি ওয়েব ডেস্ক
কলকাতা টিভি ওয়েব ডেস্ক Edited By: 
  • আপডেট সময় : ২৭-০৮-২০২২, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
চিতার ধোঁয়াকে এখনও সন্ধ্যারতি ভাবছে প্রায় নিশ্চিহ্ন কংগ্রেস
চিতার ধোঁয়াকে এখনও সন্ধ্যারতি ভাবছে প্রায় নিশ্চিহ্ন কংগ্রেস

কণাদ দাশগুপ্ত: গান্ধী পরিবারের কেউই আপাতত রাজি হচ্ছেন না কংগ্রেসের সভাপতি হতে৷ আর শুধুমাত্র এই কারণেই শতাব্দীপ্রাচীন এই দলটির সভাপতি নির্বাচনই অনির্দিষ্টকাল পিছিয়ে দেওয়া হলো৷ এর ফলে বাড়তি যে সময় পাওয়া গেলো, তা না'কি খরচ করা হবে রাহুল গান্ধীকে সভাপতির পদ নিতে 'রাজি' করানোর জন্য৷ তাই যতদিন না রাহুলবাবু রাজি হচ্ছেন, ততদিন সাংগঠনিক নির্বাচন করার কথা ভাবতেই রাজি নয় কংগ্রেস হাই কম্যাণ্ড৷ 

এমন বিচিত্র ঘটনা দেশের কোনও পরিবারতান্ত্রিক আঞ্চলিক দলের ক্ষেত্রেও ঘটেনি৷ অথচ অবলীলায় সেই বেনজির কাজ করে দেখালো ভারতের জাতীয় কংগ্রেস৷ গান্ধী পরিবারের বাইরে থাকা দলের বিবৃতিসর্বস্ব নেতারা চুপ থেকে মেনেও নিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত৷ ভাবখানা এমন যে গান্ধী পরিবারের কেউ একজন দলের সভাপতি হলেই কংগ্রেস ফের দেশের শাসন ক্ষমতায় ফিরবে৷ কেউ প্রশ্নও তুললেন না সেই ১৯৯৮ থেকে এই ২০২২ পর্যন্ত দলের সভাপতি পদটি রয়েছে গান্ধী পরিবারেরই দখলে৷ ২০১৭ থেকে ২০১৯, এই ২ বছর রাহুল গান্ধী সভাপতি ছিলেন, এ ছাড়া বাকি ২২ বছরই টানা দলের শীর্ষপদে রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী৷ আর দীর্ঘ এই দু'যুগ ধরেই রোজ একটু একটু করে অস্তাচলের যাত্রী হয়েছে কংগ্রেস, কোনও গান্ধীই পতন ঠেকাতে পারেননি, পারছেনও না৷ তবুও কোনও ভ্যাকসিনই কংগ্রেসকে 'গান্ধী-ফোবিয়া' থেকে উদ্ধার করতে পারছে না৷ মুখাগ্নির আগুনকে এখনও যজ্ঞানল ভেবে চলেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ 

এদিকে একের পর এক শীর্ষনেতারা দল ছাড়ছেন৷ সেই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া থেকে সাম্প্রতিক গুলাম নবি আজাদ৷ মাঝে কপিল সিব্বল, হার্দিক প্যাটেল থেকে সন্দীপ দীক্ষিত, সুনীল জাখর, হরিশ রাওয়াত, সুস্মিতা দেব'রা৷ ওয়েটিং লিস্টে জ্বল জ্বল করছে আনন্দ শর্মা, শশী থারুর, মনীশ তিওয়ারির নাম৷ দল ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রত্যেকেই রাহুল গান্ধীর অযোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন৷ গান্ধী পরিবার দলটিকে 'দখল' করে রেখেছে, এমন অভিযোগও করেছেন৷ তবুও  চৈতন্য হচ্ছে না জাতীয় কংগ্রেসের৷ একবারও ভাবছে না, কেন এই অভিযোগ ? অন্যদিকে গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবেই প্রতিটি নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ছে কংগ্রেস৷ দেশের রাজনৈতিক ক্যানভাস থেকে প্রায় উধাও হয়ে যাওয়া শতাব্দীপ্রাচীন এই দলে এখনও চলছে শুম্ভ-নিশুম্ভের লড়াই৷ দলের গ্রহণযোগ্যতা কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে চিন্তা- ভাবনা করার ফুরসতই নেই শীর্ষ নেতৃত্বের৷  দলের অন্দরে বিপুল এনার্জি খরচ করে ক্ষমতা দখল করা বনাম ক্ষমতায় টিঁকে থাকার লড়াই চলছে৷ জনমানসে বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো দলের তথাকথিত শীর্ষনেতারা এই এনার্জি যদি বিভিন্ন রাজ্যের ভোটে খরচ করতেন, তাহলে হয়তো  ফুটো পাত্র হাতে নিয়ে বার বার বাড়ি ফিরতে হতো না ভারতের জাতীয় কংগ্রেসকে৷ 

এই দলের 'শালগ্রাম শিলা' গান্ধী পরিবার৷ লাগাতার ব্যর্থতা প্রদর্শন করা সত্ত্বেও ওই শিলা'র আবাহনে খামতি নেই৷ স্রেফ আবেগের তাস খেলে গান্ধী-পরিবার আজও পদে টিঁকে থাকতে চেষ্টা করছে৷ পদযাত্রা জাতীয় সস্তার কিছু চমক দিয়ে দলের বিক্ষুব্ধদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন৷ অথচ চেয়ারপার্সন এবং তাঁর পরামর্শদাতারা বুঝতে পারছেন না, তাদের গ্রহণ করা প্রায় সব সিদ্ধান্তই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরছে৷ ইস্তফা পত্রে এই ক্ষোভই প্রকাশ করে ফেলেছেন গুলাম নবি আজাদ৷ গান্ধী পরিবারের দিকে তোপ দেগে কপিল সিব্বল,আজাদ-রা দাবি করেছেন, "আজ সময় এসেছে 'ঘর কি কংগ্রেস’-এর বদলে ‘সব কি কংগ্রেস’ তৈরি হোক৷ গান্ধী পরিবার নেতৃত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াক। বারবার হার সত্ত্বেও কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের দম্ভ দূর হচ্ছে না৷ এমনকী তাঁদের স্তাবকদের ভোলও বদলায়নি।"  অন্যদিকে, অশোক গেহলটদের মতো গান্ধী পরিবার -ঘনিষ্ঠ নেতারা বিক্ষুব্ধদের পাল্টা বিদ্ধ করে বলেছেন, "এই নেতারা ‘অকৃতজ্ঞ’,এরা বিজেপি- আরএসএসের ভাষায় কথা বলছেন"৷  

তবে এটাও ঠিক, গান্ধী পরিবারের হাত থেকে জাতীয় কংগ্রেসকে বার করে আনলেই ভেন্টিলেশনে থাকা দলটি চনমনে হয়ে ডবলু ডবলু এফ খেলতে নেমে পড়বে, গুলাম নবি আজাদের এমন ধারনাও হাস্যকর৷  ইস্তফা পত্রে আজাদ বিস্তর বাণী দিয়েছেন৷ পাতালে তলিয়ে যাওয়া কংগ্রেসকে তুলে আনতে যেন বদ্ধপরিকর আজাদ৷  কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই কাজে কতখানি যোগ্য এই গুলাম ?  কংগ্রেসের গ্রাসরুট স্তরে আজাদের গ্রহণযোগ্যতা কতখানি ? আমজনতার  'নেতা' হিসেবে এই গুলাম নবি আজাদ খায়, না, মাথায় দেয় ? কংগ্রেসের দুর্বল সংগঠনকে শক্তিশালী করে তুলতে পারবেন তিনি, এমন উচ্চাশা আজাদের হঠাৎ কেন হলো ?  

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই আজাদ বিজেপির ব্রিফ নিয়েছেন৷ বিজেপি চাইছে কংগ্রেস মুছে যাক দেশ থেকে৷ গেরুয়া বাহিনী জানে গান্ধী-পরিবারের হাতে কংগ্রেসের স্টিয়ারিং থাকলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোট তৈরি হলেও হতে পারে৷ তাই ভাঙ্গতে হবে কংগ্রেসকে৷ সম্ভবত সেই ব্রিফ নিয়েই আসরে নেমেছেন আজাদ এবং আরও অনেকে৷ লক্ষ্য একটাই, বিজেপির 'স্বার্থ' রক্ষা করতে পারলে এবং অবশ্যই 'খুশি' রাখতে পারলে, রাজ্যসভার একটি টিকিট মিলতে পারে৷ এই লোভেই 'বিপ্লবী' হচ্ছেন গুলাম নবি আজাদরা৷  

মোটের উপর ভানুমতীর খেল চলছে জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে৷ সব পক্ষই লড়াইয়ে জয়ী হতে মরিয়া৷ ওদিকে দেশজুড়ে এখনও টিঁকে থাকা কংগ্রেস কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের গ্রাস করছে চরম হতাশা৷ এদের খবর কেউ রাখেনা৷ এআইসিসি আড়াআড়িভাবে এখন বিভক্ত৷ গান্ধী পরিবার এবং তাদের বিরোধী শিবির, দু'তরফই ভাবছে শেষপর্যন্ত তারাই জিতবেন৷ তারাই দলকে নেতৃত্ব দেবেন৷ 

দুই তরফই আজ চিতার ধোঁয়াকে  সন্ধ্যারতি ভাবছে৷ ওদিকে যে নীরবে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে কংগ্রেস, সে কথা কেউই রাখছে না৷ 

Tags :

0     0
Please login to post your views on this article.LoginRegister as a New User

শেয়ার করুন


© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.