KolkataTV

লাদাখ ‘গণবিক্ষোভে’ সোনমকেই দায়ী করল কেন্দ্র

ওয়েব ডেস্ক: আলাদা রাজ্যের মর্যাদা ও বিশেষ সংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে তরুণরা ফেটে পড়েছেন বিক্ষোভে। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় লেহ -লাদাখের (Ladakh) বাসিন্দা ‘জেন জি’দের। আগুন দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে। সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন চার জন। এই পরিস্থিতিতে লাদাখে (Mass Protest Ladakh) হিংসা ছড়ানোর জন্য জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককেই (Sonam Wangchuk) কাঠগড়ায় তুলল কেন্দ্র। পাশাপাশি, ভাঙচুর এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার জন্য নাম জড়িয়েছে স্থানীয় কংগ্রেস কাউন্সিলার ফুন্টসগ স্ট্যানজিন সেপাগেরও।

জম্মু কাশ্মীর থেকে পৃথক করার পর ২০১৯ সাল থেকে লাদাখে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসন জারি আছে। তখন থেকেই সাংবিধানিক সুরক্ষা ও পৃথক রাজ্যের মর্যাদা দাবিতে আন্দোলন করছেন লাদাখবাসী। তাদের মূল দাবি হলো, তারা নির্বাচিত স্থানীয় সরকার চান, যা কেবল পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার মাধ্যমেই সম্ভব। গত ছয় বছর ধরে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও অনশনের মতো আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। সেই আন্দোলন হঠাৎ সহিংস রূপ নেওয়ায় প্রশ্ন উহয়েছে?কেন তরুণরা হঠাৎই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠল?

আরও পড়ুন: মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য নিরাপত্তাবাহিনীর, খতম ৩ নেতা

সরকারের তরফ থেকে এই হিংসার জন্য দায়ী করা হয়েছে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুককে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বহু নেতা সোনমকে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও তিনি তা শোনেননি। আরব বসন্তের কায়দায় বিক্ষোভে উস্কানি দিয়ে গিয়েছেন। এছাড়াও নেপালে সাম্প্রতিক জেন জি বিক্ষোভের উল্লেখও করেছিলেন সোনম। এতে করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে পরিবেশকর্মী সোনমের বিরুদ্ধে। বুধবারের হিংসাত্মক এই ঘটনাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে।
রিপোর্টে জানানো হয়, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সোনমের অনশন ধর্মঘটের স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী গিয়ে বিজেপির পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছিল। সোনমের এতে ইন্ধন ছিল। লেহ-র সরকারি প্রধানের অফিসেও হামলা চালানো হয়। তবে সকালের হিংসাত্মক ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। এদিকে কেন্দ্রের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ‘তাঁর উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে এতকিছু হলেও সোনম ওয়াংচুক নিজে এর মাঝে অনশন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজের গ্রামে ফিরে যান।

দীর্ঘ আলাপ-আলোচনায় লাভ হয়নি। একের পর এক ডেডলাইন দিয়েও দাবি মানেনি কেন্দ্র। এরপরেই সহিংস আন্দোলন ছড়ায় লেহ-লাদাখে। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় পাথর। একাধিক পুলিশ ভ্যান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। এমনকী ক্ষুব্ধ জনতা বিজেপি দফতর আগুন লাগিয়ে দেয়।

অন্য খবর দেখুন 

Exit mobile version