ওয়েব ডেস্ক: শুরু হয়ে গেল ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ। আর বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে দিল আয়োজক মেক্সিকো। আর এই উদ্বোধনী ম্যাচের পর থেকেই আলোচনায় ব্রাজিলের অভিজ্ঞ রেফারি (Brazilian Referee) উইল্টন সাম্পাইয়ো (Wilton Sampaio)। মাঠে তিনটি লাল কার্ড (Red Card) দেখিয়ে তিনি যেমন ম্যাচের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছেন, তেমনই তাঁর একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা এবং বিদ্রুপও।
৪৪ বছর বয়সী সাম্পাইয়ো আন্তর্জাতিক ফুটবলে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ২০০৯ সাল থেকে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ স্তরের ম্যাচ পরিচালনা করছেন তিনি। ২০১৩ সালে ফিফার স্বীকৃত রেফারি হিসেবে ব্যাজ পাওয়ার পর থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন। লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং অন্যান্য বড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত দেখা গিয়েছে তাঁকে। কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন। যদিও সেই ম্যাচেও তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
আরও পড়ুন: ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপ কবে শুরু? ফাইনাল কবে? ফিরছে ২৪ বছর আগের নিয়ম?
শুক্রবারের ম্যাচে প্রথম বড় সিদ্ধান্তটি আসে ৬৫ মিনিটে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোলে গোলের সুযোগ তৈরি করা ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে পিছন থেকে ফাউল করলে সাম্পাইয়ো সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিশেষ বিতর্ক না থাকলেও পরবর্তী ঘটনাগুলি আলোচনার জন্ম দেয়। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার এনজোয়ানে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মেক্সিকোর আরভারাল্দোকে ধাক্কা দেন। প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পরামর্শে রিপ্লে দেখেন সাম্পাইয়ো। এরপর তিনি এনজোয়ানেকে লাল কার্ড দেখান। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা নয়জন ফুটবলার নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে বাধ্য হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেক্সিকোর সিজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার মুদাউকে ফাউল করে সম্ভাব্য গোলের সুযোগ নষ্ট করার অভিযোগে তাঁকে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়।
২০০৬ সালের বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পর বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে এতগুলি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা আর ঘটেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছেন সাম্পাইয়ো। তবে শুধু সিদ্ধান্ত নয়, তাঁর কড়া দৃষ্টিভঙ্গি এবং কঠোর শরীরী ভাষাও দর্শকদের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ম্যাচ চলাকালীন তাঁর বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। অনেক সমর্থক মজা করে লিখেছেন, ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ফুটবলারদের নয়, বরং রেফারি সাম্পাইয়োরই পাওয়া উচিত ছিল। কেউ কেউ তাঁকে বিশ্বকাপের প্রথম ‘খলনায়ক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
দেখুন আরও খবর:







