০৩ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার,
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
K T V Clock
জ্যোতিবাবুর জমানায় অবহেলিত ‘নলজাতক’ স্রষ্টাকে স্বীকৃতি দিল মমতা সরকার
জ্যোতিবাবুর জমানায় অবহেলিত ‘নলজাতক’ স্রষ্টাকে স্বীকৃতি দিল মমতা সরকার
  • আপডেট সময় : সেপ্টেম্বর
জ্যোতিবাবুর জমানায় অবহেলিত ‘নলজাতক’ স্রষ্টাকে স্বীকৃতি দিল মমতা সরকার

কলকাতা: ‘এক ডক্টর কি মওত।’

যুগান্তকারী আবিষ্কারের স্বীকৃতি তো মেলেইনি। উল্টে জুটেছিল লাঞ্চনা, অপমান, বঞ্চনা, অসহযোগিতা। যার পরিণতিতে মাত্র ৫০ বছর বয়সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন ভারতের প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্মদাতা ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়। বাম সরকার তাঁকে অবহেলা করলেও, মৃত্যুর ৩০ বছর পর সুভাষবাবুর আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিল মমতা সরকার।

আরও পড়ুন: ‘ধর্ষক’ বাবা চাইলেও মা চান না সন্তানের ডিএনএ টেস্ট, বিস্মিত আদালত

সম্প্রতি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এশিয়ায় প্রথম তথা বিশ্বে দ্বিতীয় টেস্টটিউব বেবির জন্মদাতা ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায় কর্মস্থল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (এনআরএস)-এর ছাত্রাবাসটি তাঁর নামাঙ্কিত হবে। ছাত্রাবাস চত্বরে তাঁর আবক্ষ মূর্তিও বসানো হবে। তিনি যে ঘরে থাকতেন, সেখানে তাঁর স্মৃতিফলকও বসানো হবে।

১৯৭৮ সালের ৩ অক্টোবর তাঁর হাত ধরেই পৃথিবীর আলো দেখে ভারতের প্রথম টেস্টটিউব বেবি ‘দুর্গা’ (কানুপ্রিয়া আগরওয়াল)। দুর্গার জন্মের মাত্র ৬৭ দিন আগে বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি নেয়। দুই ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক প্যাট্রিক স্টেপটো ও রবার্ট জিওফ্রি এডওয়ার্ডস-এর হাত ধরে জন্ম হয়েছিল লুইস জন ব্রাউনের।

আরও পড়ুন: বাড়ছে স্কুলছুটের সংখ্যা, কারণ জানতে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট

সীমিত পরিকাঠামো ও যন্ত্রপাতির সাহায্যে কলকাতায় বসে অসাধ্য সাধন করেছিলেন সুভাষবাবু। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দফতর তাঁর গবেষণার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দের ১৮ নভেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জ্যোতি বসু সরকার। এছাড়া ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের আবিষ্কারকে নস্যাৎ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন পশ্চিমবঙ্গেরই একদল চিকিৎসক।

আরও পড়ুন: ত্রিপুরার ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লির গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূল সাংসদদের বিক্ষোভ

তদন্ত কমিটি রায় দেয়, সুভাষের সমস্ত গবেষণা মিথ্যা। শাস্তিস্বরূপ ভারতের প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্মদাতাকে রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অপথ্যালমোলজি নামক প্রতিষ্ঠানের চক্ষু বিভাগে বদলি করে দেওয়া হয়। যার ফলশ্রুতিতে তিনি বাধ্য হন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে। ১৯৮১ সালের ১৯ জুন কলকাতায় নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তিনি৷

সুইসাইড নোটে লেখা ছিল- ‘আই ক্যান্ট ওয়েট ফর অ্যা হার্ট অ্যাটাক টু কিল অর টেক মি অ্যাওয়ে।’ যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘হার্ট অ্যাটাক কখন আমার মৃত্যু ডেকের আনবে, তার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারলাম না।’

Tags :

শেয়ার করুন


© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.