ওয়েব ডেস্ক : বারুইপুরের (Baruipur) নাবালিকা হত্যা মামলায় চার্জশিট (Chargesheet) পেশ পুলিশের (Police)। বৃহস্পতিবার বিশেষ পকসো আদালতে ৭০২ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে SIT। ঘটনার ৫৭ দিনের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করল বিশেষ তদন্তকারী দল। চার্জশিটে চার অভিযুক্তের নাম রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা চালানোর পাশাপাশি পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। তবে চার অভিযুক্তের মধ্যে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল বর্তমানে জীবিত নেই।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গত ৫ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বেরনোর পর নিখোঁজ হয়ে যায় ১২ বছরের ওই নাবালিকা। পরদিন সকালে সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় তার দেহ। এরপরই ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। দ্রুত তদন্ত শেষ করতে গঠন করা হয় SIT।মামলার তদন্তে একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ (Police)। তদন্তকারীদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গে নাবালিকাকে দেখা গিয়েছিল। এরপর তাঁকে-সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে গুলিতে প্রভাসের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাকে ঘিরে আলাদা তদন্তও চলছে।
আরও খবর : মোদির জন্মদিন ঘিরে বাংলায় মাসব্যাপী বিজেপির মেগা কর্মসূচি, নজরে যুব-মহিলা
ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। নাবালিকার শরীরে যৌন নির্যাতনের প্রমাণের পাশাপাশি একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড় ও আঁচড়ের দাগ ছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অচেতন অবস্থায় তাকে বস্তাবন্দি করে জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
নাবালিকার মৃত্যুর পর এলাকায় যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনাতেও পুলিশ একাধিক মামলা করেছে। এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশকে আক্রমণ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় প্রায় ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল মামলায় চার্জশিট জমা পড়ার পর এবার দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষা। তদন্তের প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটও জমা পড়তে পারে।
