ওয়েব ডেস্ক : টানা ভারী বর্ষণে মাটি ধসে চুনকুড়ি নদীর ওপর ভেঙে পড়ল প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো ‘বিবেকানন্দ সেতু’ (Vivekananda bridge)। কাকদ্বীপ (Kakdwip) বিধানসভার বুধাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনগর ও ফটিকপুর গ্রামের সংযোগকারী এই কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ায় চূড়ান্ত বিপাকে পড়েছেন ফটিকপুরের প্রায় চার হাজার মানুষ। বর্তমানে ভাঙা পাটাতনের ওপর কয়েকটি বাঁশ ফেলে চরম প্রাণঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন স্কুল পড়ুয়া, মহিলা থেকে শুরু করে গ্রামের বাসিন্দারা। বহু মানুষ আবার অতিরিক্ত ৩ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধাখালি পঞ্চায়েতের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাম জমানায় তৈরি হওয়া এই সেতুর ভগ্নদশা সত্ত্বেও কাকদ্বীপে তৃণমূল জামানার ২০ বছরেও কোনো স্থায়ী কংক্রিটের সেতু হয়নি। তৃণমূল জামানায় ভোটের সময় এলেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা বারে বারে সেতু কংক্রিট করার লম্বা লম্বা আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু নির্বাচন মিটলেই তা স্রেফ চাটুকারিতা আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। কোনো স্থায়ী সংস্কার না করে কেবল অস্থায়ী মেরামতের লোকদেখানো কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
আরও খবর : বিধবা ভাতা পেলে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা কি পাবেন? কী জানাল সরকার
নিরাপত্তা ও যাতায়াতের স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ইতিমধ্যে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানাকে তাঁদের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি জানিয়েছেন।
গত ২০ বছর ধরে তৃণমূলের বিধায়ক থেকে শুরু করে স্থানীয় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের এই খতিয়ান এখন গ্রামের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। বাসিন্দাদের সাফ কথা—অবিলম্বে এখানে স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করতে হবে। আর সেটা যদি না হয় তাহলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেবে।
