ওয়েব ডেস্ক : ২০১৯ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি কচুয়া ধামের বহু মানুষ। জন্মাষ্টমীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট (Basirhat) মহকুমার কচুয়া লোকনাথধামে বিপুল পুণ্যার্থীর ভিড়ের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল একটি পুরনো পাঁচিল। বৃষ্টি ও কাদায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পাঁচিল ভেঙে পড়ার পর আতঙ্কে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। সেই ঘটনায় সরকারি হিসাবে ছয় জনের মৃত্যু এবং ২৭ জন আহত হন।
সেই ঘটনার পর কচুয়া ধামকে ঘিরে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। লোকনাথ মিশনের সদস্য মনোজ রায় জানান, বর্তমানে কচুয়া ধাম রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকেও আসা পুণ্যার্থীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবেই এই পূণ্যভূমির ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
এবার ২৯৬তম জন্মতিথিকে ঘিরে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ভিড় সামলাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি ড্রোন উড়িয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আরও খবর : পুরভোট নিয়ে তৎপর রাজ্য নির্বাচন কমিশন, জেলাশাসকদের সঙ্গে হচতে চলেছে জরুরি বৈঠক
কচুয়া ধামের যুগ্ম সম্পাদক সুবীর মল্লিক এবং সদস্য নিত্যগোপাল দাস ও প্রসেনজিৎ রায়ের বক্তব্য, কচুয়া ধাম নিয়ে কোনও ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারে কান না দেওয়াই ভালো। তাঁদের দাবি, এই স্থানের সঙ্গে প্রাচীন সংস্কৃতি ও বহু মহাপুরুষের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। লোকনাথ বাবার সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তাই কচুয়া ধামের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুরুষ ও মহিলা পুলিশকর্মীদেরও মোতায়েন রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। ২০১৯-এর আতঙ্কের পুনরাবৃত্তি ঠেকিয়েই এবার কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড় সামলানোর লক্ষ্য কচুয়া ধামের।
