ওয়েব ডেস্ক : শ্রাবণের পূর্ণিমা এলেই উৎসবের রঙে সেজে ওঠে পূর্ব বর্ধমানের কালনা (Kalna)। বুধবার থেকে শুরু হল শতাব্দীপ্রাচীন মা মহিষমর্দিনীর পুজো (Puja)। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মন্দির চত্বর। ধর্মীয় আচার, লোকবিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধনে এই পুজো আজও কালনার অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে পরিচিত।
লোককথা অনুযায়ী, রানাঘাটের পালচৌধুরী পরিবারের সদস্য ঈশ্বরীপ্রসাদ পালচৌধুরী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরই কালনায় (Kalna) এই পুজোর সূচনা করেন। বিশ্বাস করা হয়, রানাঘাটের মহিষাসুরমর্দিনীর প্রতিমার একটি পাটা গঙ্গার স্রোতে ভেসে কালনার নদীতীরে এসে পৌঁছেছিল। সেই পাটার উপর দেবীর প্রতিমা গড়ে নয়াগঞ্জ, বর্তমান কালনায় পুজো শুরু হয়। সেই ঐতিহ্য আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
আরও খবর : নিম্নচাপ সরে গেলেও স্বস্তি নেই, কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে আরও দু’দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস
এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর সময়। দুর্গাপুজোর মতো আশ্বিনে নয়, শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা থেকে টানা চার দিন ধরে চলে দেবীর আরাধনা। পুজো উপলক্ষে বাড়ি ফেরেন বহু মানুষ, নতুন পোশাক কেনাকাটা থেকে শুরু করে পারিবারিক মিলনমেলায় উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে। চার দিনের পুজো শেষ হলেও মেলা চলে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন।
মা মহিষমর্দিনী এখানে দশভুজা রূপে পূজিতা হলেও তাঁর দুই পাশে থাকেন জয়া ও বিজয়া। প্রাচীন রীতি মেনে এখনও প্রথম সংকল্প করা হয় বর্ধমানের রাজার নামে এবং দ্বিতীয় সংকল্প পালচৌধুরী পরিবারের নামে। চণ্ডীপাঠ, ধুনো পোড়ানো, ভোগারতি ও অন্যান্য প্রাচীন আচার আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়।
মনস্কামনা পূরণের আশায় বহু ভক্ত নদীতে পবিত্র স্নান সেরে দণ্ডী কেটে মন্দিরে পৌঁছন। একসময় কাঁসার বাসন নিবেদনের যে প্রথা ছিল, তার স্মৃতিও এখনও বহন করে এই পুজো। শতাব্দীপ্রাচীন এই পূজাকে ঘিরে আজও কালনার প্রতিটি অলিগলি উৎসবের রঙে রাঙিয়ে ওঠে। ধর্মীয় আচার, লোকবিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়ে মা মহিষমর্দিনীর এই পুজো আজও কালনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসব হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র মর্যাদা ধরে রেখেছে।







