ওয়েব ডেস্ক : উত্তরবঙ্গ সফরে এসে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। রবিবার শিলিগুড়ি (Siliguri) পুরনিগমে জনসংযোগ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে সাংবাদিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের নগর উন্নয়ন, পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ীকে আলাদা পুরসভা করার সিদ্ধান্ত। স্থানীয় বিধায়কের আবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি শিলিগুড়িকে ‘হিমালয়ান সিটি’(Himalayan City) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হবে। একই সঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, মিরিক ও শিলিগুড়িকে বিশেষ ‘হিল টাউন সিটি’ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
কোচবিহরের (Cooch Behar) উন্নয়নে প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহরকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। মিরিকের পানীয় জল প্রকল্পের তিনটি এসটিপি চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানান অগ্নিমিত্রা। এছাড়া ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ১,৬৯৮ কোটি টাকা।
আরও খবর : দুবাইয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে টুলু! অফিস সিল করল পুলিশের
যানজট কমাতে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ একাধিক শহরে মাল্টি-লেভেল পার্কিং তৈরি করা হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শিলিগুড়িতে চালু হবে অ্যাপ-ভিত্তিক ও অনলাইন পার্কিং ব্যবস্থা। থাকবে ওয়ান-সাইড পার্কিং ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম ও পরিচয়পত্র-সহ পার্কিং কর্মী এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পার্কিং ব্যবস্থা। একই দিন থেকে রাস্তায় ময়লা বা থুতু ফেললে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হবে।
নাগরিকদের ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোথাও আবর্জনা দেখলে অ্যাপে ছবি আপলোড করলেই দুই ঘণ্টার মধ্যে তা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করবে পুরনিগম। পাশাপাশি ভারত পেট্রোলিয়ামের সহযোগিতায় শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হবে। দুপুর ও সন্ধ্যাতেও অতিরিক্ত দফায় রাস্তা পরিষ্কার করা হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে উত্তরবঙ্গের বড় বাজারগুলিতে বিশেষ ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। সেখানে ভুট্টা ও আনারসের তন্তু দিয়ে তৈরি ব্যাগ মাত্র ১ টাকায় এবং পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি ব্যাগ ৫ থেকে ১০ টাকায় পাওয়া যাবে। মন্দিরে ব্যবহৃত ফুল পুনর্ব্যবহার করে ধূপকাঠি ও আবির তৈরির প্রকল্পও চালু হবে। প্রথম পর্যায়ে জলপেশ, মদনমোহন ও ভার্মি দেবী মন্দিরে দুর্গাপুজোর সময় থেকেই এই উদ্যোগ শুরু হবে। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি শহরে আধুনিক বাসস্টপ নির্মাণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। সেখানে থাকবে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, মোবাইল চার্জিংয়ের ব্যবস্থা, বাসের রিয়েল-টাইম তথ্য, যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা এবং হ্যাঙ্গিং গার্ডেন। পাশাপাশি বস্তি এলাকায় কমিউনিটি টয়লেট এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।







