সোনারপুর: সরকারি ও ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজপুর-সোনারপুর (Rajpur-Sonarpur) পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বাড়ি ও কার্যালয় মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। ঘটনাস্থলে ডিম ছোড়া থেকে শুরু করে ‘চোর চোর’ স্লোগানও শোনা যায়।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে স্ট্রিট লাইট, ত্রিপল, সিমেন্টের বস্তা, বালতি, ব্লিচিং পাউডার-সহ বিভিন্ন সরকারি ও ত্রাণসামগ্রী। অভিযোগ, ওই সমস্ত সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালপত্র বাজেয়াপ্ত করে। বর্তমানে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছন্দা ঘোষাল। এর আগে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছিলেন তাঁর স্বামী সৌমেন মোহন ঘোষাল।
আরও পড়ুন: চার বছর পর ফের শুরু ১০০ দিনের কাজ, মহিষাদলে প্রকল্পের উদ্বোধনে খুশি শ্রমিকরা
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সরকারি সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখা হয়েছিল এবং তা উপভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।
এলাকার একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ার্ডে নানা ধরনের অনিয়ম চলছিল। বিজেপি কর্মী নিতাই মজুমদারের দাবি, সরকারি প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়া হতো। কমিশন না দিলে কাজ করতে বাধার মুখে পড়তে হত বলেও অভিযোগ তাঁর।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌমি চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডে উন্নয়নের কাজ কার্যত থমকে রয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি শৌচালয় এখনও চালু হয়নি। পাশাপাশি এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাও বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার বা খণ্ডন করে কোনও মন্তব্য করতে চাননি কাউন্সিলার ছন্দা ঘোষাল। তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি মুখ খোলেননি।
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি সরকারি সম্পত্তি কি না এবং কীভাবে সেগুলি সেখানে মজুত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।







