ওয়েব ডেস্ক: বুধবার তখনও ভোরের আলো ফোটেনি, শাহি স্নানের জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। এর মাঝেই ঘটে যায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Stampede)। মৌনী অমাবস্যার সকালে পবিত্র কুম্ভ (Mahakumbh 2025) হয়ে উঠল রক্তাক্ত। পদপিষ্ট প্রাণ হারালেন ১০ জনের বেশি পুণ্যার্থী, আহত অনেকেই। চারদিক জুড়ে কান্নার রোল। কেউ পুণ্য অর্জনের জন্য এসে হারিয়েছেন বাবাকে, কেউ হারিয়েছেন মাকে, কেউ আবার ভাই-বোন, কেউ প্রিয়জনকে। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? এবার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন এক পুণ্যার্থী।
পদপিষ্টের ঘটনার শিকার এক পুণ্যার্থী বলেন, মৌনী অমাবস্যার জন্য এদিন শাহি স্নানের ব্যবস্থা করা হয় প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে। সেইজন্য দেশ-বিদেশ থেকে কোটি কোটি পুণ্যার্থী ভিড় জমিয়েছিলেন সেখানে। সামনের পথ ছিল অবরুদ্ধ। এদিকে পিছন থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছিল। তাতেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ভেঙে পড়ে সামনের ব্যারিকেড। তাতে চাপা পড়ে প্রাণ হারান অনেকেই।
আরও পড়ুন: মহাকুম্ভে পদপিষ্টের ঘটনায় বাতিল হয়নি কোনও স্পেশাল ট্রেন, বিবৃতি ভারতীয় রেলের
ভোররাতের দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে এক পুণ্যার্থী বলেন, “রাত আড়াইটে নাগাদ প্রচুর মানুষ সঙ্গমের তীরে এসে পৌঁছেছিলেন। অনেকেই মাথায় ভারী মালপত্র নিয়ে এসেছিলেন স্নান করতে। নদীর তীরে লোহার বেশ কিছু ডাস্টবিন রাখা ছিল, যা ভিড়ের মধ্যে অনেকেরই দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। তাতেই ধাক্কা খেয়ে বহু পুণ্যার্থী মাটিতে পড়ে যান। মাথায় থাকা মালপত্রও ছিটকে পড়ে। মালপত্র এবং মাটিতে পড়ে যাওয়া পুণ্যার্থীদের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আরও অনেকে পড়ে যান। তাঁদের মাড়িয়েই এগোতে থাকেন অন্যেরা। চোখের সামনে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।”
এদিকে এই ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পুণ্যার্থীদের সবসরকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) তাঁকে ফোন করে খবর নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মহাকুম্ভের দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। চলছে উদ্ধারকাজ। কিন্তু এখনও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।
দেখুন আরও খবর: