ওয়েবডেস্ক- সোমবার শুরু হচ্ছে বিএসএফ (BSF) ও বাংলাদেশের বিজিবি-র (BGB) বৈঠক। চারদিনব্যাপী বৈঠক চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। দু-দেশের সীমান্তের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। বীরভূমের বাসিন্দা সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবার বাংলাদেশের জেলে বন্দি। বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি সুইটি বিবি ও তাঁর পরিবারও। ভারত থেকে এই পরিবারগুলিকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছিল।
এ নিয়ে ভারতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। ভারতের বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবি-র আলোচনায় উঠবে কি সোনালি-সুইটিদের প্রসঙ্গ?
বিএসএফের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, সীমান্তের সুরক্ষা সহ বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার বিষয়গুলি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে। তবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা কিনা, সে সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এছাড়াও ভারতীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা, সীমান্তে অপরাধের মোকাবিলা, বেড়া নির্মাণ যুগ্ম ভাবে সীমান্ত পরিচালনার পরিকল্পনাও বৈঠকে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিয়ে আলোচনা হবে কি না, তা স্পষ্ট করেনি ভারত। যদিও সম্প্রতি এই অনুপ্রবেশ নিয়ে বার বার অভিযোগ উঠেছে।
ভারত থেকে সে দেশে মানুষজনকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি (পুশ-ইন) আলোচনায় তুলতে পারে বিজিবি। এছাড়াও অনিরাপদ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের ঘটনাকে এ আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর ডিজি দলজিত সিং চৌধুরী (DG Daljit Singh Chowdhury) । বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী (Chief Major General Mohammad Ashrafuzzaman Siddiqui) । ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর দ্বিতীয় ডিজি পর্যায়ের বৈঠক।
আরও পড়ুন- বিহারের ভোটার তালিকায় দুই পাক নাগরিকের নাম! বিতর্ক তুঙ্গে
এর আগে সর্বশেষ ডিজি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি, নয়াদিল্লিতে। এই বৈঠকগুলো প্রতিবছর দুইবার ভারত ও বাংলাদেশে পালা করে হতে থাকে।
উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য যৌথ নির্দেশিকা (১৯৭৫) অনুযায়ী প্রশাসনিক সমস্যাগুলো সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রথম বৈঠক হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। পরে ১৯৩৩ সালের ৭ থেকে ৯ অক্টোবর ঢাকায় হয় ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, ডিজি পর্যায়ের বৈঠক প্রতিবছর দু’বার করে হবে।
দেখুন আরও খবর-