কলকাতা: ২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day 2026)। ১৯৫০ সালে এই দিনেই সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দেশ। প্রতি বছরের মতো এবারও দিল্লির কর্তব্য পথে হবে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ—সামরিক ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান আর রঙিন ট্যাবলোয় ফুটে উঠবে ভারতের সামরিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য।
তবে কুচকাওয়াজের পাশাপাশি নজর থাকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে—কারা বসছেন রাষ্ট্রপতির পাশের আসনে। এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতাকে আমন্ত্রণ জানানোকে ভারতের বিদেশনীতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: প্রজাতন্ত্র দিবস বনাম স্বাধীনতা দিবস, দুই দিনের পার্থক্য কোথায়?
প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে দিল্লির কেন্দ্রস্থল কার্যত এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিণত হয়। হাজার হাজার সেনা সদস্যের কুচকাওয়াজের সামনে, রাষ্ট্রপতির ঠিক পাশে বসেন প্রধান অতিথি—যে আসনটি অনেক সময়েই প্রধানমন্ত্রী বা শীর্ষ মন্ত্রিদের থেকেও বেশি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। ফলে কে ওই আসনে বসছেন, তা শুধুই প্রোটোকলের বিষয় নয়, বরং ভারতের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারও প্রকাশ করে।
১৯৫০ সালে ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সুকর্ণো। সেই সময় সদ্য স্বাধীন দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছিল ভারত। পরবর্তী কয়েক দশক ধরেই প্রজাতন্ত্র দিবসের অতিথি তালিকা দেখে বোঝা গিয়েছে, কোন দেশ বা অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে দিল্লি।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—বিশ্ব রাজনীতির বদলে যাওয়া সমীকরণে ইউরোপকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে ভারত।







