ওয়েবডেস্ক- অবিরাম বৃষ্টি (Heavy Rain), ভূমিধসে (Land Slide) তছনছ জম্মু কাশ্মীর। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়ে পড়েছে। আজ মন কি বাত (Mann Ki Baat) থেকেও জম্মু কাশ্মীরের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। এই ধবংসযজ্ঞের মধ্যেই এবার দিল্লি (Delhi) সহ এনসিআর-এ (NCR) হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করেছে মৌসম ভবন (IMD)।
পূর্বাভাস অনুসারে, পূর্ব দিল্লি, মধ্য দিল্লি, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি এবং শাহদারা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ আরও পূর্বাভাস দিয়েছে যে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি সহ বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। যমুনা নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার সতর্কতা (Flood Alert) জারি করা হয়েছে হিমাচল সহ উত্তরাখণ্ডে। অবিরাম বৃষ্টিপাতের প্রভাবে হিমাচল প্রদেশ এখনও বিপর্যস্ত। জানা গেছে এই বর্ষায় ৯১টি আকস্মিক বন্যা, ৪৫টি মেঘ ভাঙন এবং ৯৩টি বড় ধরনের ভূমিধসের ফলে ৩,০৪০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। অপর দিকে টানা বৃষ্টিতে ভাসছে পঞ্জাব। হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে শতদ্রু, বিয়াস এবং রবি নদীর জল বেড়েছে। নদীগুলির স্রোতের কারণে রাজ্যজুড়ে বন্যার আশঙ্কার মধ্যে রবিবার পঞ্জাবের বেশ কয়েকটি অংশে বৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ রবিবার এবং সোমবার আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে।
কাপুরথালা জেলা প্রশাসন রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি সতর্কতা জারি করেছে। সুলতানপুর লোধি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে বিয়াস নদীর জলস্তর বাড়ছে। জেলা প্রশাসক অমিত কুমার পাঞ্চাল জানিয়েছেন যে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিয়াস নদীর জলস্রোত ২.৩৫ লক্ষ কিউসেক বেড়েছে। আবহাওয়া বিভাগ কাপুরথালা জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ধারকাজ জারি আছে। পঞ্জাবের পাঠানকোট, গুরুদাসপুর, ফাজিলকা, কাপুরথলা, তরন তারান, ফিরোজপুর, হোশিয়ারপুর এবং অমৃতসর জেলার গ্রামগুলি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন- ছোটদের আধারকার্ডের বায়োমেট্রিক আপডেট করতে নির্দেশ UIDAI-এর!
এনডিআরএফ, সেনাবাহিনী, বিএসএফ, পাঞ্জাব পুলিশ এবং জেলা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যাপক ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, রাজ্য সরকার, এনজিও এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি মানুষকে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত মোট ১১,৩৩০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সীমান্তবর্তী রাজ্যটির জন্য বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজ চেয়ে পঞ্জাবের বেশ কয়েকজন নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন।
রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী গোয়েল কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করে ৩৭ বছরের মধ্যে পঞ্জাবে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, জুন মাসে বিবিএমবি যদি সময়মতো জল ছেড়ে দিত তাহলে ক্ষতি কমানো যেত। আপ ও কংগ্রেসের বিধায়করা এক মাসের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান (Punjab Chief Minister Bhagwant Mann) , তার মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা এবং আম আদমি পার্টির (আপ) বন্যার ত্রাণ কাজে সহায়তা করার জন্য ত্রাণের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দেখুন আরও খবর-