ওয়েবডেস্ক- ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) চোখ রাঙানির মধ্যেই আরও কাছাকাছি ভারত -চীন (India China)। গালওয়ান, ডোকলাম দিয়ে যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল, দীর্ঘ সেই নীরবতা সমাপ্ত হল ২০২৫ সালে। যা রাজনৈতিক দিক দিয়ে দুই দেশের জন্যই একাধিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের পর দুইজনে বন্ধুতের প্রতিশ্রুতিতে হাত মেলালেন। চওড়া হাসি হাসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। গতকাল জাপান (Japan) সফর শেষ করেই চীনের পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী মোদি।
আজ রবিবার সেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Chinese President Xi Jinping) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রায় ৪০ মিনিটের বেশি সময় ধরে দেশের দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথোপকথন হয়। এর পরেই সেই বহু প্রতীক্ষিত ছবি সামনে এল। দেখা গেল দুজনের মুখে হাসি মোদির হাত ধরে শি জিনপিং।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার আলোচনার সময় বলেছেন যে ভারত বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি উল্লেখ করেন যে উভয় পক্ষ তাদের বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একমত হয়েছে, যা সৈন্য প্রত্যাহারের পরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। অপরদিকে জিনপিং প্রধানমন্ত্রীকে মোদিকে দেখে বলেছেন, আপনার সঙ্গে দেখা করে খুব ভালো লাগছে। এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের জন্য আপনাকে চীনে স্বাগত জানাচ্ছি। গত বছর, কাজানে আমাদের একটি সফল বৈঠক হয়েছিল, আরও বিশদে আলোচনা এখনও বাকি আছে।
মোদি আরও ঘোষণা করেছেন যে, সীমান্ত নিয়ে ভারত-চিন বিশেষ চুক্তিতে রাজি হয়েছে। কৈলাস মানসরোবর যাত্রাও শুরু হয়েছে। ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শীঘ্রই পুনরায় শুরু হবে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ আরও সহজ হবে। মোদি আরও বলেন, আমাদের এই বন্ধুত্বে সঙ্গে ২৮০ কোটি মানুষের সম্পর্ক জড়িয়ে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে, ভারত ও চিন বিশ্বের সব থেকে জনবহুল দুই দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের অংশ। ‘ড্রাগন ও হাতি’কে একসঙ্গে আসতে অনুরোধ করেন তিনি।
আরও পড়ুন- ট্রাম্পকে যোগ্য জবাব! জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিরাট বার্তা মোদির
গালওয়ান সংঘর্ষের পরে দীর্ঘ সাত বছর পরে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এই প্রথম চীন সফর করলেন মোদি। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেই আশাবাদি রাজনৈতিক মহল। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির মধ্যে ভারত ও চীন কাছাকাছি। ভারত ও চীনের সম্পর্ক আরও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ভারত আয়োজন করতে যাচ্ছে, তাই এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে এই দুই দেশের মধ্যে বরফ গলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
দেখুন আরও খবর-