কলকাতা: ঠিক যেন সাদা কার্পেট পেতে রেখেছে প্রকৃতি। দার্জিলিংয়ের (Darjeeling) সান্দাকফু (Sandakphu), ফালুট থেকে সিকিমের ইয়ুংথাং উপত্যকা, ছাঙ্গু হ্রদ, নাথু-লা পাস, বাবা মন্দির—চারদিকে শুধুই বরফের রাজত্ব। গাছগাছালি, বাড়ির ছাদ, পাহাড়ি ঢাল—সবই ঢাকা তুষারে। ভারী তুষারপাতের জেরে রাস্তার উপর পুরু বরফ জমে যান চলাচলে সমস্যা দেখা দিলেও, সেই ঝুঁকিকে তোয়াক্কা না করেই বরফের টানে পাহাড়মুখো পর্যটকের ঢল নেমেছে (Snowfall in Darjeeling)।
বর্ষবরণের দিন ইয়ুংথাং উপত্যকায় শুরু হওয়া তুষারপাত এখনও থামেনি। শনিবার রাত থেকে বরফ পড়ার তীব্রতা আরও বেড়েছে। নাথু-লা, ছাঙ্গু উপত্যকা ও সংলগ্ন উঁচু গিরিপথগুলিতে প্রবল তুষারপাত চলছে। কোথাও কোথাও কমেছে দৃশ্যমানতা, বেড়েছে অক্সিজেনের সমস্যা। তবু তুষারের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে ক্যামেরা হাতে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা। শিশুরা মেতে উঠেছে তুষারে খেলায়, চলছে সেলফির হিড়িক।
আরও পড়ুন: ১০-এর ঘরে পারদ! জানুয়ারিতে রেকর্ড শীত কলকাতায়
কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে পাহাড়। গ্যাংটকে দিনের তাপমাত্রা নেমেছে প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, রাতে তা শূন্যের কাছাকাছি। নাথু-লার মতো উঁচু এলাকায় তাপমাত্রা মাইনাস ৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। তীব্র ঠান্ডা সত্ত্বেও পর্যটকের ভিড় কমেনি। দার্জিলিং পাহাড়ে কার্যত ঠাঁই নেই দশা। সান্দাকফু-সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়।
সিকিম পর্যটন দফতর সূত্রে খবর, উত্তর সিকিমে হোটেল ও হোমস্টে প্রায় সম্পূর্ণ বুকড। শুধুমাত্র গ্যাংটকেই প্রতিদিন প্রায় ৪৫ হাজার পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বড়দিনের পর থেকেই পর্যটকের ঢল নেমেছে। দার্জিলিংয়েও তুষারপাত না হলেও হোটেল-হোমস্টে প্রায় ভরতি।
রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু জানিয়েছেন, “এবার জানুয়ারি মাস জুড়ে দার্জিলিং পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় সর্বকালীন রেকর্ড ছুঁতে পারে। তুষারপাত হলে সেই ভিড় আরও বাড়বে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







