Friday, August 29, 2025
HomeScrollদিল্লিতে WHO–র নামে কোটি টাকার প্রতারণা, লালবাজারের জালে দুই নাইজেরিয়ান

দিল্লিতে WHO–র নামে কোটি টাকার প্রতারণা, লালবাজারের জালে দুই নাইজেরিয়ান

মোট ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকারও বেশি

কলকাতা: ফের আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস। কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতির অভিযোগে দক্ষিণ পশ্চিম দিল্লির পালম এলাকা থেকে দুই নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। অভিযোগ, ভুয়ো ই-মেল, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ও জাল নথি ব্যবহার করে ‘Abbott Pharmaceutical UK’ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা চালাতেন অভিযুক্তরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি বছরের ১ মে–র আগেই অভিযুক্তরা কলকাতার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেয়। ভুয়ো ওয়েবসাইট ও জাল নথি দেখিয়ে তাঁকে ‘কোলা নাট ট্রেডিং’ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে রাজি করানো হয়। শুরুতে প্রকল্পকে বৈধ ভেবে ওই ব্যবসায়ী টাকা বিনিয়োগ করলেও পরে প্রতারণার শিকার হন। অভিযোগ, মোট ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকারও বেশি। এরপরেই তিনি কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: ‘অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, কী বলছেন কুণাল ঘোষ

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর, আইপি অ্যাড্রেস ও সার্ভার ডেটা খতিয়ে দেখে পুলিশের হাতে আসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। কল ডিটেইলস, আইএমইআই ট্র্যাকিং এবং গুগল লগস থেকে স্পষ্ট হয়, দিল্লির মহাবীর এনক্লেভ থেকেই প্রতারণা চালাচ্ছিল ধৃতরা।

ইন্সপেক্টর সোমা মাইতি এবং সার্জেন্ট সন্তানু গেনের নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল দিল্লি পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানে নামে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ধরে ফেলে পুলিশ। এসময় এক কনস্টেবল আহত হন। ধৃতরা হলেন –এজিকে বেঞ্জামিন নওবুনওয়ানে (৩৪), নাইজেরিয়ার আকওয়া প্রদেশের বাসিন্দা। বিলিভ অনিয়োচেলেম (৩১), ডেলটা স্টেটের ইউটে ওকপু ইকা এলাকার বাসিন্দা। শিগগিরই তাঁদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হবে।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন,“উদ্ধার হয়েছে বিপুল নথি ও ডিভাইস— বারোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, দুটি কী–প্যাড মোবাইল, একটি রাউটার, একটি ল্যাপটপ, দুটি ব্রিটিশ সিম কার্ড, চারটি এটিএম কার্ড ও একটি পেন ড্রাইভ। ল্যাপটপে নকল নথি তৈরির প্রমাণ রয়েছে এবং পেন ড্রাইভে ভুক্তভোগীদের তথ্যভান্ডার সংরক্ষিত।”

প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, ধৃতদের যোগ রয়েছে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে। আগে ধরা পড়া কয়েকজন অভিযুক্তের সঙ্গেও এদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের মতে, এটি একটি **বড় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক**, যারা ভারতজুড়ে কোটি টাকার প্রতারণা চালাচ্ছে।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News